উদ্বোধনের অপেক্ষায় মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের

0
71

দীর্ঘ চার বছর পর শেষ হচ্ছে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। ফ্লাইওভারের সড়কবাতি লাগানো, দেয়াল রং করা শেষে চলছে ঝাড়ু-মোছার কাজ।

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় পেলে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যানজট এবং নির্মাণ ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশায় স্বস্তির কথা জানান মালিবাগ-মৌচাকের বাসিন্দারা।সরেজমিন মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের মালিবাগ অংশে গিয়ে দেখা যায়, শেষ সময়ের কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সড়কবাতি লাগানো শেষ হয়েছে ফ্লাইওভার জুড়ে। লাইটগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখছিলেন বেশ কয়েকজন। পোশাক পরে রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন লাইজু বেগম। তিনি বলেন, খুঁটির ঝালাই কাজ শেষ হওয়ায় বেশ কিছু আবর্জনা তৈরি হয়েছে। সেগুলোসহ আমরা ফ্লাইওভার ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছি। এরপর পানি দিয়ে ধোয়া হবে। রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কারণে পরিষ্কার করতে অসুবিধা হচ্ছিল। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর আমাদের দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

উদ্বোধন কবে হবে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, ফ্লাইওভারের সব কাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের জন্য ফ্লাইওভার পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা উদ্বোধনের জন্য অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। তিনি সময় দিলেই ফ্লাইওভারের উদ্বোধন হবে।

ফ্লাইওভার নির্মাণের আগে তীব্র যানজট আর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বৃষ্টির পানি, খানাখন্দ এবং গরমের ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক এলাকার মানুষের জীবন। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাই ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তিতে এই এলাকার মানুষ।

ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক ফাহিম আকন্দ বলেন, ফ্লাইওভার তৈরির শুরু থেকেই যানজট আরও বেড়েছে। তাই ফ্লাইওভার খুলে দিলে হয়তো এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে। ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে গিয়ে আর বৃষ্টিতে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে রাস্তা। একটু বৃষ্টি হলেই পানি দোকানে ঢোকে আর গরমের ধুলায় শ্বাস নেওয়া কষ্ট। আগের তুলনায় বেচাকেনা কমে গেছে আমাদের।

ওই ফ্লাইওভারটি তিন ভাগে করা হয়েছে। একটি অংশ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল। গত বছরের মার্চ মাসে এ অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত ফ্লাইওভার একদিক খুলে দেওয়া হয়। এখন খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় আছে ফ্লাইওভারের মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ-মগবাজার অংশ।

মৌচাক এলাকার বাসিন্দা লোকমান মিয়া বলেন, ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় কয়েকদিন আগে দেখলাম পিচ ঢালাই করছে। এখন ফুটপাথে টাইলস বসানো হচ্ছে। কিন্তু টাইলস বসাতে সিমেন্ট না দিয়ে সিমেন্ট গোলানো পানি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করলাম, সিমেন্ট না দিয়ে শুধু পানি দেওয়া হচ্ছে কেন? তারা জানাল আমাদের এভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। তার দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় গিয়ে দেখা গেল কথা সত্যি। বালুর ওপর সিমেন্ট মেশানো পানি ঢেলে দিয়ে বসানো হচ্ছে টাইলস। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই ফাঁকা হয়ে উঠে যেতে পারে ফুটপাথের সৌন্দর্যবর্ধক এই টাইলস।

ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট ১৯৯৯ সালে যান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমীক্ষা করে। সেই সমীক্ষায় ঢাকা মহানগরীর ২০টি স্থানে ফ্লাইওভার, ইন্টারসেকশন, আন্ডারপাস, বাসস্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাল, পার্কিং এরিয়া নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। পরে ২০০০ সালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে যৌথ বিনিয়োগে ফ্লাইওভার নির্মাণের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সে সময় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে ২০১১ সালের ৮ মার্চ একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে কাজ শুরু করে সময়সীমা বাড়ানো হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এই সময়েও কাজ শেষ করতে না পারায় সময়সীমা বাড়িয়ে এ বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে বর্ধিত সীমা অতিক্রম করে সেপ্টেম্বরে গিয়ে শেষ হয়েছে এই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ।

Facebook Comments