বাড়ির আঙ্গিনায় ক্ষুদ্র ফার্ম করে আজ স্বাবলম্বী রেজিনা

0
13

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল: নড়াইলের সরকারী আদর্শ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশান ডিগ্রি নিয়ে চাকরি পিছনে না ঘুরে নিজ বাড়ীতে লেয়ার মুরগীর ফার্ম করে স্বাবলম্বী হয়েছে উপজেলা সদরে সরকার পাড়া গ্রামের রেজিনা খানম সনেট।

তিনি লোন নিয়ে ২০০৮ সালে মাত্র ১০০টি লেয়ার মুরগীর বাচ্চা নিয়ে নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় ক্ষুদ্র আকারে একটি ফার্ম গড়ে তোলেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, সে সময় তিনি যুবউন্নয়ন ও উপজেলা প্রানী সস্পাদ বিভাগ থেকে লেয়ার মুরগী পালনের উপর বিশেষ প্রশিক্ষন গ্রহন করেন । প্রধান মন্ত্রীর একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের কর্মসুচীর আওতায় তিনি এ ব্যবসায় এখন লাভবান । নিজের মেধা ও প্রশিক্ষন লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সফল এক জন মুরগী ফার্মের মালিক । নীলা লেয়ার ফার্মের মালিক রেজিনা খানম সনেট জানান,আমরা শুধু লেযার মুগীর বাচ্চা ক্রয় করে ডিম উৎপাদন করে তা বিভিন্ন বাজারে সরবাহ করে থাকি । ফার্মে বতমানে ১৪শ লেয়ার মুরগী আছে। প্রতিদিন ১২শত ডিম পাওয়ার ফলে এলাকায় ডিমের অনেকটা চাহিদা পুরণ হয়। আমার মত এলাকায় আরো মহিলারা এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে । একদিনের প্রতিটি লেয়ার মুরগীর বাচ্চা ১০৭ টাকা দরে কিনে সেটি কে কমপক্ষে ৫ মাস খাওয়ানোর পর ডিম দেওয়ার উপযোগী হয়। সঙ্গে ওষুধ, বিদ্যুৎ খরচ, পরিবহন খরচ করে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে শয়াডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে লেয়ার ফার্ম ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার। অথচ এক সময় অনেকেই বাড়িতে ছোট-খাটো লেয়ার খামার গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। এখন তারা অনেকেই দেউলিয়া হয়ে গেছে। একদিকে লেয়ার মুরগীর বাচ্চার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আর অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খাবার ও ওষুধ, ভ্যাকসিনের দাম। এ বিষয় উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে বলেন, বেকার মহিলরা ও যুবকরা লেয়ার ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু বর্তমান লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও সাফল্যের মুখ দেখতে পাচ্ছেন নার্ ফ্লু, ফিডের মূল্যবৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকট, বিদ্যুৎ লোডশেডিং, সরকারী সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধার অভাবে এ শিল্প আজ হুমকির সম্মুখীন।

Facebook Comments