মুক্তমতঃ ধর্ষণ প্রতিরোধ

0
41

সাইমুর রহমান রাহাতঃ সময় যতো যাচ্ছে তার চেয়েও দ্রুত গতি তে এগিয়ে যাচ্ছে ধর্ষণ ! আজ নারীকুল ঘর থেকে বের হতে ভয় পায় ইজ্জত হারানোর আশংকায়। কোথাও নিরাপত্তা নেই। রাস্তাঘাট, মার্কেট-শপিং সেন্টার, যানবাহনেও এর ভ্রষ্টতা থেমে নেই। আর গ্রামীণ অঞ্চলে স্কুল-কলেজ এবং পাট ক্ষেত। সব জায়গায়ই চলছে ধর্ষণ। এই গণহারে ধর্ষণের প্রধান কারণ হচ্ছে ধর্ষণকারীদের সঠিক এবং উপযুক্ত বিচার না হওয়া। ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে ক্রমান্বয়েই ধর্ষণের হার কমে আসবে।

ধর্ষণ হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে নারীর প্রতি পুরুষের শারীরিক তীব্র আকর্ষণ। বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার হয় কিশোরী এবং তরুনীরা। তাই তাদের উচিৎ পর্দাশীল জামা পরিধান করা, এবং প্রয়োজনে মুসলীম নারীদের বোরকা ব্যবহার করা। এটা করলে পুরুষের নারীর প্রতি আকর্ষণ কিছুটা হলেও কম থাকে।

ইদানীং সংবাদপত্রে দেখা যাচ্ছে, বাবা’র দ্বারা মেয়ে ধর্ষণ। ভাইয়ের দ্বারা বোন ধর্ষণ। চাচা’র দ্বারা ভাতিজি ধর্ষণ। মামা’র দ্বারা ভাগ্নি ধর্ষণ। প্রেমিক এবং তার সঙ্গী নিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ। বিশেষ করে খারাপ লাগে, যখন দেখি নিজ বাবা’র শারীরিক লালসার শিকার হয়েছে তার নিজেরই মেয়ে। তখন নিজেকে প্রশ্ন করি এ কোন দেশে বাস করছি আমরা? এ কোন সমাজের নিবাসী আমরা? যেই সমাজে নিজের বাবা’র দ্বারা মেয়েকে ধর্ষণ হতে হয়। নিজের ভাইয়ের শারীরিক লালসার চাহিদা বোন কে পূরণ করতে হয়। ছিঃ ছিঃ!ধিক্কার জানাই এমন সমাজেকে। ধিক্কার জানাই এইসব নরপশুদের। ধিক্কার জানাই মানুষরূপী এই হায়েনাদের।

একটা মেয়ে যখন ধর্ষণ হয় তখন সেই ধর্ষিতা মেয়েটির কতটা খারাপ অবস্থা হয়। মেয়েটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়। মেয়েটি যদি তরুণী হয়, তবে তাকে কেউ বিয়েও করতে চায় না। মেয়েটি এবং তার পরিবারের জন্য নেমে আসে একটি কালো অধ্যায়। মেয়েটির জীবনে পড়ে যায় একটি লাল দাগ। যেই দাগটির কারণে ধর্ষিতা মেয়েটি এবং তার পরিবারের জন্য নেমে আসে অঝর ধারার বৃষ্টি। যেই বৃষ্টিপাত আকাশের নয়, তাদের চক্ষুদ্বয়ের। চাইলেও সেই দাগটি ধর্ষিতা মেয়েটির জীবন থেকে সড়ানো যায় না, মুছে ফেলা যায় না।

তাই আসুন, সকলেই মিলে ধর্ষণ প্রতিরোধে জনমত গড়ে তুলি। ধর্ষকের বিরুদ্ধে কঠিন এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার এবং সংবাদে ধর্ষিতার নয় বরং ধর্ষকের ছবি প্রকাশ করা হোক এই দাবী জানাই।

Facebook Comments