প্রতিটি গ্রামে পাঠাগার সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন!

0
36

দেশের প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার গড়ে তোলা, বন্ধ পাঠাগারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনরায় চালু করা, বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত পাঠাগারগুলোকে একই মঞ্চে একত্রিত করা, বই পাঠে যুব সমাজকে আকৃষ্ট করা এবং পড়ার জন্যে ঘরে ঘরে পাঠাগার সৃষ্টিতে উদ্ধুদ্ধ করার মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে কোটি পাঠক সৃষ্টির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক জ্ঞানপিপাসু তরুণ ও পাঠাগার প্রেমিরা। এঁরা সবাই জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন নামের একটি সংগঠনের সদস্য।

গত ২২ জানুয়ারী ২০১৭ সালে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা এবং প্রত্যেকেই বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত। প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগার। এরই মধ্যে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা, ইউনিয়ন, গ্রামে পাঠাগার সৃষ্টি, অনিবন্ধিধিত পাঠাগারকে নিবন্ধনে সহায়তা ও বই সহায়তা করেছে।

গত ১৮ আগস্ট বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সংগঠনের ডাকা ‘পাঠক আড্ডা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা সংগঠনটির উল্লেখিত আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন উপস্থিত পাঠকদের প্রশ্নোত্তরে।

বক্তারা বলেন, পড়ার জন্যে বই আর বইয়ের জন্যে পাঠাগার এক ও অবিচ্ছেদ্য। তাই ‘জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের’ স্লোগান হলো ‘বই পড়ি পাঠাগার গড়ি’। একমাত্র পাঠকই এই সম্পর্ক অনুভব করবে।

তাই পাঠাগার গড়ার জন্যে সবার আগে পাঠকদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা স্বেচ্ছায় এ কাজে এগিয়ে আসতে পারেন। এটি একজন সুনাগরিকের সামাজিক দায়িত্বও বর্তায়। সামাজিকভাবে স্বচ্ছল ও আগ্রহীরা উদ্যোগী হয়ে নিজ গ্রামে গড়ে তুলতে পারেন পাঠাগার। এ কাজে কেউ চাইলে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন তাদের সহযোগী হবে।
বক্তারা আরো বলেন, পাঠাগার গড়ার জন্যে ব্যক্তি উদ্যোগই সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। পৃথিবীর প্রথম পাঠাগার আসিরীয় রাজ্যের ‘ভ্যাটিকান পাঠাগার’ (১৬০২ খ্রি.) ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শিক্ষিত তরুণদেরকেই পাড়া মহল্লায় পাঠাগার বিপ্লব ঘটাতে হবে। সবাইকে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের সহযোগী হয়ে কাজ করার আহব্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্থ থেকে আগত পাঠকরা বলেন, সত্যিই আমাদের একটা আন্দোলনের দরকার এই সময়ে। আর সেটি হলো জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন। পাঠাগার থাকলে বই থাকবেই। বই থাকলে পাঠক এমনিতেই সৃষ্টি হবে। প্রয়োজনের তগিদে পাঠকই পাঠাগার খুঁজে বের করবে।

Facebook Comments