‘সোনাগাছির প্রতি আমার গোপল দুর্বলতা আছে’

0
57

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক পরিবহন মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা মদন মিত্র’এর হাতে রাখি পরিয়েদিলেন কলকাতার সোনাগাছির যৌনকর্মীরা।

সোমবার কলকাতার সোনাগাছিতে এক অনুষ্ঠানে মদন মিত্রকে রাখি পরিয়ে দেন তারা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি তুলে ধরতে এদিন রাখি উৎসবে মেতে উঠেন ভারতের বৃহত্তম পতিতালয় সোনাগাছি’এর যৌনকর্মীরা। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল যৌনকর্মীদের নিজস্ব সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি (ডিএমএসসি) ও আমরা পদাতিক সংগঠন।

মদন মিত্র ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পৌরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারসহ সংগঠনের কর্মকর্তা এবং সোনাগাছির কয়েক হাজার যৌনকর্মী। তবে শুধু সোনাগাছি থেকেই নয়, রাজ্যের অন্য নিষিদ্ধপল্লীর যৌনকর্মীরাও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে নিজেদের মধ্যে সংহতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে যৌনকর্মীরা একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে দেন। এদিনের এই উৎসবে যৌনকর্মীদের সন্তানরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান ‘আমাকে যখনই এই সোনাগাছিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় আমি ছুটে চলে আসি, কারণ এই অঞ্চলের প্রতি আমার গোপল দুর্বলতা আছে’। ওই দুর্বলতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন ‘২০০৪ সালে আমি এই শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। সেবার ভোটের দিন সকালে বোমা ফেলে ভোট লুট করে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র বিশ মিনিটে ১১ হাজার ভোট পাই, আর এর মধ্যে সাড়ে দশহাজার ভোট এই সোনাগাছি থেকে পাই। যেটা এই সোনাগাছির বোনেরা দিয়েছিল এবং আমাকে সমর্থন করেছিল…’। আগামী দিনে এই সংগঠনকে সবরকম সহায়তা করার আশ্বাসও দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী। তিনি বলেন সমাজজীবনে যৌনকর্মীরা একটা বিশেষ ভূমিকা রাখছে তাই এই যৌনকর্মীদের দূরে সরিয়ে না রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

রাখি পরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। কালীঘাটের বাড়ি থেকে নবান্ন যাওয়ার পথে দক্ষিণ কলকাতার গোপালনগরে মমতার গাড়ি দাঁড় করিয়ে তার হাতে রাখি পরিয়ে দেন স্থানীয় নারীরা। মমতাও তাদের হাসিমুখে রাখির শুভেচ্ছা জানান।

অন্যদিকে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’এর হাতে রাখি পরিয়ে দেন বৃন্দাবনের বিধবা নারীরা। এদিন সকালের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে গিয়ে মোদিকে বাসায় তৈরি করা রাখি পরিয়ে দেন বিধবা নারীরা, মোদিকে আর্শীবাদও করেন তারা। এরপরই মোদির হাতে রাখি পরিয়ে দেন আর.বি.এস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

Facebook Comments