“আসুন, জলাবদ্ধতাকে পজিটিভলি ব্যবহার করি”

0
675

কাজী আনিছঃ সকালে শিক্ষার্থী সুপ্রিয় শিকদারের ফোন। অপরপ্রান্তে আতঙ্ক টের পাচ্ছি। ‌’স্যার, আপনি কোথায়?’
-এ তো বের হচ্ছি। ভার্সিটি পৌঁছব। কেন, কী হয়েছে?
-এখন বের হইয়েন না, স্যার।
-কেন?
-স্যার, আপনার বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছি। ৩২ নম্বর পর্যন্ত জ্যাম। রাস্তায় পানি আর পানি। এক ঘণ্টা ধরে বসে আছি এক জায়গায়, স্যার।

রাস্তায় পানি আসলেই এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে বৃষ্টি হলে কত রোমান্টিক কথাবার্তা শুনতাম, পড়তাম। কত রোমান্টিক ছবি! এখন দেখি নদীর ছবি। যে নদীতে রিকশা, মোটরসাইকেল উল্টাইয়া পড়ে।

এ আতঙ্ক বাড়বে। দূর হওয়ার লক্ষণ দেখি না। তাই এটাকে পজিটিভলি নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।

পথে কোনো দিন ছিনতাইকারী ধরলে তাকে ভয় দেখাতে পারেন, ‌’ভাই, এসব নিয়া তো যাইতে পারবেন না। ২৭ নম্বরে তো পানি আর পানি। কারওয়ান বাজার তো ভাই এখন বঙ্গোপসাগর। পল্টনের অবস্থা আরও খারাপ। যাইবেন কই?’

দেখবেন, ছিনতাইকারী কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা করে সব মালামাল আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবে। এটা তো পজিটিভ।

বাচ্চা পড়তে চায় না। মা তাদের বাচ্চাদের বলতে পারেন, ‘পড়ো বাবা, পড়ো। না পড়লে বৃষ্টি নামবে। রাস্তায় পানি জমবে। তোমার কি মনে নাই, তুমি, তোমার বাবা আর আমি রিকশা উল্টিয়ে বাংলা মোটরের পানিতে পড়ে গেছিলাম। তোমার বাবার মাজায় এখনও ব্যথা।’

বাচ্চার লেখাপড়া আর কে থামায়।

শুধু তা-ই নয়, এখন আর গোলাগুলি করে ‘ক্রসফায়ার’ করারও দরকার নেই। গোলাগুলির দিন শেষ। বলা যেতে পারে, ‘গতকাল মঙ্গলবার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সন্ত্রাসী বাইট্টা আনিছকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় এক বস্তির পাশে তার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাইট্টা আনিছকে নিয়ে সেখানে রওনা দেওয়া হয়। মাঝপথে রিকশাযোগে জলাবদ্ধ পানি পাড়ি দেওয়ার সময় রিকশা উল্টাইয়া যায়। পানিতে পড়ে যায় বাইট্টা আনিছ। এতে ঘটনাস্থলেই পানিতে ডুবে আনিছ মারা যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাইট্টা সাঁতার জানতো না। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

আসুন, জলাবদ্ধ পানিকে পজিটিভলি ব্যবহার করি।

এটাও একটা উন্নয়ন।

Facebook Comments