খুব শিগগিরই ডিভোর্স দিবেন

0
53

রাজধানীর পরীবাগের একটি ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও অবৈধভাবে এমপি স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করা মামলায় গ্রেফতার সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোসকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গত ৩০ জুন গ্রেফতারের পর কার্লোসের কাছ থেকে আদায় করা তথ্যে চমকে উঠেন খোদ তদন্ত কর্মকর্তারাই। অবৈধ মুদ্রা, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের তথ্যে রীতিমতো হৈচৈ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, কার্লোসকে ঘিরে মডেল ও অভিনেত্রীদের মধ্যে সাবিনা রিমা নামের নারী নিজেকে কার্লোসের বিবাহিত স্ত্রী দাবি করেছেন। কার্লোসের শারীরিক অক্ষমতার কারণে গত সাত মাস ধরেই তিনি কার্লোসের কাছ থেকে আলাদা বসবাস করছেন। খুব শিগগিরই তিনি তাকে ডিভোর্স দিবেন বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্তের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহ্বাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, কার্লোসের কাছ থেকে আদায় করা তথ্যের যাচাই বাছাই চলছে। মামলার প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে আনা হবে। এদিকে, সাবিনা রিমা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিশেষ বান্ধবী না, আমি কার্লোসের বিয়ে করা স্ত্রী। ৪ অক্টোবর মগবাজারের কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। তারপরও গণমাধ্যমে আমাকে বিশেষ বান্ধবী বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। যা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একপ্রকার হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে। আমার নাম সাবিনা রিমা এবং যে মেয়েটি সেদিন কার্লোসের ফ্ল্যাট থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার হয় তার নাম ছিল শিমু। যতদূর জানি তার বাড়ি বরিশাল। কিন্তু অনেকেই না বুঝে আমাকেই সেই মেয়ে মনে করছেন। সাবিনা বলেন, ‘আমি কার্লোসের একমাত্র বিবাহিত স্ত্রী। ওর অন্য কোনো স্ত্রী নেই। থাকলে আমি জানতাম। আর বলা হচ্ছে আমি সেদিন আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছি। আমি যদি আহত হতাম তাহলে এখন শুটিং করছি কীভাবে? আসলে ঐদিন অন্য একটি মেয়ে ছিল বাসায়। ’  সাবিনার দাবি, কার্লোসের অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য কার্লোস বিভিন্ন ওষুধ ও ইয়াবা সেবন করতেন। এরপর তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। সাবিনার দাবির পর কার্লোসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কার্লোসের বাবা আবুল হোসেন বলেছেন, ‘পরিবারের অসম্মতিতে এ বিয়েটা হয়। কিন্তু বিয়ের পর বাধ্য হয়ে সাবিনাকে ঘরে স্থান দিই। কার্লোসের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি গত ১৫ মে (ঘটনার দেড় মাস পূর্বে) শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে জিডি (যার নং ৯৫৯) করেছিলেন। এর আগে কার্লোসকে খিলক্ষেতের বিকন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। একুশে টিভির ‘মুক্ত খবরে’র উপস্থাপিকা ছিলেন সাবিনা রিমা। এরপর ২০১২ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বিজয়ী হওয়ার পর রিমা একটি টেলিকম কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাজ করছেন। ‘ছেলেটি আবোল-তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ নামে একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে দীপ্ত টিভির দুটি ধারাবাহিক নাটকে তিনি অভিনয় করছেন।   সূত্র বলছে, অবৈধ মুদ্রা, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ অন্ধকার জগতের ডন ছিলেন সালেহ আহমেদ ওরফে কার্লোস। অন্ধকার জগতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বদলে যান। রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। দামি দামি গাড়ি হাঁকিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে ঘুরতেন। ব্যবহার করতেন জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম সংবলিত স্টিকার। অঢেল টাকার সুবাদে কার্লোসের বিভিন্ন পার্টিতে যোগ দিতেন শোবিজ জগতের নামিদামি মডেল ও অভিনেত্রীরা।

Facebook Comments