ভৈরব ফিরে পাচ্ছে হারানো যৌবন

0
758

মাহফুজ আল মুমিন মিথুন : মেহেরপুরের ভৈরব নদ পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশদ্বার গাংনী উপজেলার কাথুলী থেকে মুজিবনগর উপজেলার রতনপুর পর্যন্ত ভৈরব নদ খনন চলবে। ভৈরবের মেহেরপুর অংশ খননের ফলে এ নদ আবার ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন।মেহেরপুর জেলার প্রধান নদ ভৈরব ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।

নাব্যতা সংকটের সুযোগে দুই পাড়ের প্রভাবশালীরা নদীরবেশির ভাগ জমি দখল করে চাষাবাদও শুরু করে। দুই যুগ ধরে বর্ষা মৌসুমে কিছুদিন পানির দেখা মিললেও শীতকালে পানির দেখা মিলত না। ফলে জেলার কৃষি জমির বিরাট একটি অংশ সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও মেহেরপুরসহ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর অঞ্চলে মালামাল বহনের একমাত্র পথ ছিল এই ভৈরব। এ অবস্থায় জেলার মানুষের প্রধান দাবির মধ্যে অন্যতম একটি দাবি হয়ে ওঠে ভৈরব পুনঃখনন। ২০১০ সালে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভৈরব পুনঃখননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকার প্রধান। এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে খনন শুরু হলো।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে,৭০ কোটিরও অধিক টাকা ব্যয়ে ভৈরবের মেহেরপুর অংশের ২৯ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন করা হবে। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াকার্স লি. নারায়ণগঞ্জ পুনঃখননের কাজ করছে। শতাধিক আধুনিক খননযন্ত্র দিয়ে মুজিবনগর উপজেলার রতনপুর স্লুইচগেট থেকে খননকাজ শুরু হয়। নদের প্রায় ২৫ ভাগ খননের পর বর্ষা শুরু হওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে এই মাসের শেষের দিক থেকে আবারও খনন শুরু হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯২২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী নদীর যে সীমানা ছিল সেই পর্যন্ত খনন করা হচ্ছে। খনন করে নদীর প্রস্থ ৫০ মিটার হচ্ছে। গভীরতা হবে আড়াই থেকে পাঁচ মিটার। ওপরে স্লোকসহ ৬৫ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। পুনঃখননের ফলে জেলার প্রধান এই নদটি দখলমুক্তও হচ্ছে । অন্যদিকে বছরজুড়েই পানি থাকার আশা করছেন জেলাবাসী। এতে নৌকাযোগে মালামাল বহন ও পর্যাপ্ত দেশীয় মাছের উৎস সৃষ্টির ব্যাপারে আশাবাদী তারা।

তা ছাড়া নদীর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও বাজার সৃষ্টিসহ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হবে। অপরদিকে সেচসুবিধা পাওয়ায় এ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির ওপরও চাপ কমে আসবে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুনঃখনন কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এলাকায় অবস্থান করছে। এলাকার মানুষ জানান, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খননকাজ হওয়ায় নির্বিঘ্নে কাজ চলছে। যা বেসামরিক কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। দখলদারদের বেশির ভাগ তাদের স্থাপনা ও গাছগাছালি অপসারণ করে নিচ্ছেন। খননকাজে সব রকম সহযোগিতা করছেন এলাকাবাসী।

Facebook Comments