দাবদাহ ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকেও!

0
265

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেব নিকেশ থেকে জানা যায়, এটি তীব্র না বরং মৃদু তাপদাহ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ সময় এ গরম অনেকটাই স্বাভাবিক, প্রতিবছরই থাকে। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী আরও তিন-চারদিন তাপমাত্রা এমন থাকতে পারে। এ সময় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা কমবে না। মূলত দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আর এরইমধ্যে ফেসবুক হয়ে উঠেছে গরমের অভিজ্ঞতার পোস্টের ঝুলি । কেউ লিখছেন কী করণীয়, কেউ লিখছেন সতর্কবার্তা কেউবা আবহাওয়া এমন হয়ে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে বিশ্লেষণ করছেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কী হবে।

 চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহম্মদ রায়হানুল হারুন লিখেছেন, দয়া করে পড়ুন এবং অন্যদের পড়ার ব্যাবস্থা করে দিন। দয়া করে এড়িয়ে যবেন না। কারণ, আগামী ৭ দিন ২২-২৭ মে, ২০১৭ পর্যন্ত সূর্যের তাপ অনেক বেশি হবে। প্রচুর গরম পড়বে। শরীর অতি সহজেই পানিশূন্য হয়ে যাবে। *বেশি করে পানি খান, রোদ এড়িয়ে চলুন, বয়স্করা বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। শিশুদের রোদ, গরম থেকে দূরে রাখুন, পানি পান করান, হালকা খাবার খান। ‘রিচ ফুড’ খাবেন না, মাংস না খাওয়াই ভালো। নিজে সতর্ক থাকুন। অন্যদেরও সতর্ক করুন। এই গরমে কী করবেন এবং এই গরম কেন দরকার তা নিয়েও আলোচনার শেষ নেই । অনেকে আবার এটি নিয়ে মজাও করছেন, ফেসবুকে দিচ্ছেন ফান পোস্ট। সমাজ গবেষক রেজা রহমান লিখেছেন, এ কী গরমরে বাবা! বিদ্যুৎ নেই, ফ্যান চলে না। ঘরে না আছে হাতপাখা না পাখা হাতে বাতাস করবার কেউ। কাছে গাছপালা নেই। কোথায় গেলে দুদণ্ড বাতাস মেলে? কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট শেখ রোকন তার ওয়ালে লিখেছেন জ্যৈষ্ঠে যদি যথেষ্ট গরম না পড়ে…এক. আম-কাঁঠাল-লিচুসহ গ্রীষ্মকালীন ফল একযোগে পাকবে না। দুই. বকুল, অশোক, সোনালু, কৃষ্ণচূড়ার মতো ফুল পরাগরেণু ছড়াবে না। তিন. অনেক জীব-অণুজীবের ডিম ফুটবে না; প্রজনন সম্পন্ন হবে না। চার. ভূমি যথেষ্ট তপ্ত না হলে প্রথম বর্ষার বৃষ্টি শুষবে না; সামান্যতেই বন্যা হবে। পাঁচ. কৃষক বোরো ধান শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারবে না। ছয়. বর্ষার প্রতি বাঙালির আবেগ হ্রাস পাবে।

শিল্পী ও সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিক তাঁর ওয়ালে লিখেছেন , উফ অসহ্য! গরমার্ত নগর…বৃষ্টি চাই বৃষ্টি! ঝর্ণার মতো নির্ঝরিণী বৃষ্টি চাই… গ্রামে বন্দরে অথবা শহরে একটাই শোরগোল…অাল্লা মেঘ দে পানি দে বৃষ্টি দে রে তুই…

এমন সব পোস্টে ফেসবুক এখন সরগরম!

আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দু’টি তীব্র এবং অন্যত্র দুই থেকে তিনটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

Facebook Comments