ভূঞাপুর-গোপালপুরে দুই দফা দাবিতে পদযাত্রা

0
525
দুই দফা দাবিতে পদযাত্রা

‘সংঘবদ্ধ মানুষই ইতিহাঁসের নির্মাতা’ এই শ্লোগান নিয়ে ভূঞাপুরের অর্জুনা গ্রামের কৃতি সন্তান ও গ্রাম পাঠাগার আন্দলন এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছাত্তার খান দুই দফা দাবিতে পদযাত্রা শুরু করেছেন। তার আন্দোলনের শুরু ফেসবুকের মাধমে হলেও বর্তমানে এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তিনি সকল মাধ্যমেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তার পেশ করা বক্তব্য ও দাবি হল- “প্রিয় এলাকাবাসী, আমরা উত্তর ভূঞাপুর, গোপালপুর থানার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং জামালপুর জেলার কয়েকটি থানার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে যাতায়াত করে থাকি।তাছাড়া যমুনা সারকারখানার সার এই রাস্তার মাধ্যমেই সারা দেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।ফলে প্রতিদিন শতশত ট্রাক এই রাস্তায় চলাচল করে থাকে।কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এই সড়কের কোন সংস্কার না করার ফলে সড়কটি খানা-খন্দে ভরে গেছে।আবার এই সড়কটি বণ্যা নিয়ত্রণ বাঁধ হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে নলিন থেকে কুঠিবয়ড়া পর্যন্ত যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনে এই রাস্তাটি এখন হুমকীর সম্মুখীন।
রাস্তার এই চরম বেহাল দশার ফলে প্রতিদিন কোন না কোন গাড়ি দূর্ঘটানায় পড়ছে। এতে জানমালের চরম ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।রোগী, বৃদ্ধ, শিশুদের অবস্থা অবর্ণনীয়।সিএনজি, অটোরিক্সা, বাস ট্রাকসহ যে সমস্ত যানবাহন চলছে অল্প দিনের মধ্যেই সেগুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা বিপুল অঙ্কের টাকার লোকশানের শিকার হচ্ছে।আবার যমুনা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় বিশেষ করে গোলপেচাঁ, অর্জুনা, চুকাইনগর , কুঠিবয়ড়া অংশে এই রাস্তা হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। অচিরেই এই রাস্তার সংস্কার এবং নদী ভাঙ্গা প্রতিরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থানা নিলে এই অঞ্চলগুলো একদিন অতীত ইতিহাসের অংশ হবে আর প্লাবিত হবে বিস্তৃর্ণ উত্তর টাঙ্গাইল।
প্রিয় এলাকাবাসী, এই রাস্তা দিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত যাতাযাত করে থাকেন।তাছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে রাস্তার বেহাল দশা ও নদী ভাঙ্গা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, রাস্তার সংস্কার ও নদীভাঙ্গা প্রতিরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে এটা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকার এই অঞ্চলের মানুষের সাথে একটা বিমাতা সুলভ আচরণ করে যাচ্ছে। যদি এই অবস্থা আরো চলতে দেয়া হয় তবে আমরা আরো অসম উন্নযনের স্বীকার হবো এবং আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদেহী করতে হবে। আর রাষ্ট্রকে স্বীকার করতে হবে অপরিমেয় ক্ষতি।
সরকারের এই অপরিণামদর্শী নিস্ক্রিয়তার জন্য আমরা আমাদের ক্ষোপ ও প্রতিবাদ জাননোর জন্য ১লা ডিসেম্বর ২০০১৫ নলিন থেকে ভূঞাপুর পর্যন্ত(১৪ কিমি) পদযাত্রার আয়োজন করেছি। একই সাথে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যত ও কার্যত কোন পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে আগামীতে অবস্থান ধর্মঘট, অনশন , মানববন্ধনসহ নান ধরণের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
আমাদের দফাসমূহ :
১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূঞাপুর থেকে সোনামই পর্যন্ত ভূঞাপুর-তারাকান্দি রাস্তার সংস্কার কাজ করতে হবে।
২. যমুনা নদীর ভাঙ্গান প্রতিরোধে নলিন থেকে কুঠিবয়ড়া পর্যন্ত বাধঁ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে।

Facebook Comments