ভোগান্তিতে ঢাবির অধিভুক্ত শিক্ষার্থীরা

0
223

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নতুন সিলেবাস ও বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ায় নতুন করে সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন করে তথ্য ও সব কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে বিধায় অনেক শিক্ষার্থী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

ইডেন মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের আগের পদ্ধতিই ভাল ছিল। এখন নতুন করে রেজিস্ট্রেশন, কয়েক দফা কাগজপত্র জমা দান, সিলেবাস পরিবর্তন, সব মিলিয়ে আমাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর চেয়ে আগে যেভাবে ছিলাম সেটিই ভাল ছিল।’

ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নতুনভাবে কাগজপত্র জমা দিতে আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কিছু কাগজপত্রের জন্য গ্রামের বাড়িতেও যেতে হচ্ছে। এত সমস্যা না করে কাজটি অনলাইনে করে ফেললেই ভাল হতো। এ সময়ে এত ঝামেলা মাথায় নিতে ইচ্ছে করে না।’

শিক্ষার্থীদের তথ্য মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে মাস্টার্স পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বসতে পারছেন না পরীক্ষায়।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের ভয়ের কিছু নেই। সময় মতোই সবকিছু হবে। খুব দ্রুতই সব সমস্যা সমাধান করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান বলেন, ‘নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আমরা সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর কাছে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য (বায়োডাটা) চেয়েছি। শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগে যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল সেটি আমাদের সার্ভারে ম্যাচ হচ্ছে না। যার কারণে তাদেরকে নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর কাছে শিক্ষার্থীদের কিছু বায়োডাটা চেয়েছি। অধিকাংশ তথ্যই আমরা পেয়েছি। কিছু বাকি আছে। সেগুলো পাওয়া গেলে আমরা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করবো। আশা করছি খুব দ্রুত আমরা সব কার্যক্রম শেষ করতে পারবো। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’

নতুনভাবে এসব করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা হচ্ছে। একবার শেষ হয়ে গেলে এ জাতীয় সমস্যা আর থাকবে না। আর এটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট কলেজের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব কার্যক্রম ঠিকঠাক সম্পন্ন করবো। আশা করছি খুব দ্রুতই এ কার্যক্রম শেষ করতে পারবো।’

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাত্রদের বায়োডাটার জন্য চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কাগজপত্রসহ, নাম, রোল নাম্বার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা চাওয়া হয়েছে। আমরা সব তথ্যই দিচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুতই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

এর আগে গত মাসে অধিভুক্ত সাত কলেজের পরিচালনা নিয়ে কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সাথে বৈঠকে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। এতে কলেজ পরিচালনার কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়, মাস্টার্স শেষ পর্ব, অনার্স ৩য় বর্ষ, ডিগ্রি (পাস) ১ম ও ৩য় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করেছে কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, তাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নতুন করে ফরম পূরণ করতে হবে। এজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। পরীক্ষা কমিটি গঠন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ইত্যাদি কাজ কলেজ অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলোচনা করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব ছাত্র-ছাত্রীর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে সকল ছাত্রছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, যাদের ফলাফল স্থগিত আছে বা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি, তাদের ফলাফল প্রকাশের দায় দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরর। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষগণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কলেজে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ও রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা বিশেষ পরীক্ষায় ও গ্রেড উন্নয়ন করতে ইচ্ছুক তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। প্রত্যেক কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে এক কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

যে সকল শিক্ষার্থীর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া সাপেক্ষে তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করতে হবে। মাস্টার্স শেষ পর্ব ও ডিগ্রী (পাস) ১ম বর্ষে ভর্তির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রনীত দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত অপেক্ষমান মেধা তালিকা প্রেরণের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যক্ষবৃন্দকে অনুরোধ করে রেজিস্ট্রার দপ্তর কর্তৃক পত্র প্রেরণ করা হবে। কলেজ সমূহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তিকৃত ও রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

যেসব কলেজে ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু সেই সব কলেজ থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রী বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক হলে, সেই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত কোর্স কারিক্যুলাম অনুযায়ী আপাতত ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। কলেজে প্রচলিত কোর্স সমূহের কোর্স দ্রুত সংশোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজগুলোতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণি, পাস কোর্স ও মাস্টার্স কোর্সে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ গত ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

Source: Risingbd.com

Facebook Comments