আঁধার রাতের রাজধানী

0
1690
রাজধানী ফার্মগেটের সড়কের পাশে রাতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের সারি ,ছবি ,বিমল লাল

বিমল লাল:প্রত্যেকটি শহরের একটি নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। ঐতিহ্য রয়েছে। গতকাল গাড়িতে বসে বসে এই যন্ত্র নগরীর চারপাশটা দেখতে দেখতে মনে হল, কথাটা বোধহয় এই শহরের জন্য প্রযোজ্য নয়। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় দেখা যায় অনেক দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের মুখ। যাদের নেই কোন চাকুরী, নেই কোন বাস​স্থান। তাঁদের জীবন কাটে রাস্তার পাশে বা কোন ফুটপাতের ওপর। এমনই একটি রাস্তার চিত্র ধারণ করেছি ফার্মগেটের সড়ক থেকে।

একটি বেসরকারি সংস্থা বলছে রাতে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ ঘুমায় রাস্তার ফুটপাতে, বাস টার্মিনালে, রেল ইস্টেশনে এবং পার্কে। রাজধানীতে একমাত্র রাত্রিনিবাস মিরপুর ৬ নাম্বারে থাকলেও সেখানে থাকার জায়গা মাত্র ১০০ জনের। এরা কারা? কোথা থেকে এলো? কেনই বা রাস্তার ফুটপাতে রাত যাপন? বসতভিটা কিংবা বাসস্থান বলতে কি এদের কিছুই নেই? লেবার বা মেন্তি হলেও তো এদের থাকার জায়গা এটা না। কারণ যারা নিয়মিত মাল-সদাই বহনে তৎপর তাদের আয় মোটামোটি ভালো। ভালো আয়ের মানুষ এভাবে রাস্তায় রাত যাপন করবে না। এখানে পাগলদের হিসেব বাদ দিলাম,কারণ একটা পয়েন্টেই যদি ২৫/৩০টা পাগল শুয়ে থাকে, তাহলে রাজধানীকে অনায়াসে পাগলের শহর বলতে কারো দ্বিমত থাকবে না। আর যদি ভিক্ষুক হিসেবে ধরে নিতে হয়, তবে বাস্তব ভিক্ষুকের সাথে পেশাদারী ফকিরের কথাও চলে আসবে। আর যদি লেবার, পাগল, ভিক্ষুকসহ সব ধরনের পেশাদার-অপেশাদারদের হিসেবে ধরা হয় তবে বলতে হয়-এই এক বিচিত্র শহর।

মাত্র শুতে যাচ্ছে এমন এক ব্যক্তিকে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই খেপে উঠে বলল, ‘হরাত দিন ভইরা কিছু খাইবার দেয় নাই, আর এহন আইছে বক বক করতোন। আগে কিছু খাবার খেলান, তার পরেত কী জানবার  চান দেখা যাইব।’ কোন অঞ্চলের ভাষা জানি না। ভাব জমাতে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করি। এরপর জানতে পারি তিনি একজন নদীভাঙ্গা বসতহীন দুঃখী মানুষ। ছেলে-মেয়ে নেই। এই শহরে কেউ তাকে কাজ দেয় না বলে দিনে খয়রাত করে রাতে এখানে এসে ঘুমান।

আসার সময় তার চোখে দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখি। এ যেন বেদনাহত পদ্মার অদৃশ্য ঢল।জানিনা তাঁদের দিকে কি কোনোদিন কারো নজর পড়বে…তাই অসহায়দের জন্য মাথাগুজার ঠাঁই করে দেওয়ার পাশাপাশি রাজধানী শহরকে পবিত্র করা দরকার।

বিমল লাল:শিক্ষার্থী,স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
জার্নালিজম,কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ,তৃতীয় বর্ষ।
Facebook Comments