রাষ্ট্র যখন ধর্ষকের পাহারাদার!

0
186

আলতাফ হোসাইন: ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ইভটিজিং কিংবা শ্লীলতাহানিসহ এমন ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘঠছে। এর মধ্য থেকে কিছু ঘটনা আমাদের সামনে আসে গণমাধ্যমের কল্যাণে। এর ভেতর আবার যেটি একটু “ভিন্ন স্বাদের” ধর্ষণের খবর সেটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রসঙ্গ যখন ধর্ষণ তখন গণমাধ্যম কর্মীরা যেমন খুঁজে পান এক্সেপশনাল স্টোরি তেমনি এগুলো পড়ে খুবই বিনোদিত হন মুখোশধারী নিরব ধর্ষকরা! এর কিছুটা বুঝতে পারবেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা নিউজ লিংকের কমেন্টগুলো পড়লে। এ নিয়ে নানাজনের নানান রকমের “রসালো” মন্তব্য পড়ে বাঙালিজাতির মানসিকতাও বুঝতে পারবেন ভালোভাবে। সেসব অশ্লীল মন্তব্য না হয় নাই বললাম। তাদের মন্তব্যের কাছে আমরা ধর্ষিত!

অন্যদিকে, দেশে বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা অনেকের কাছে খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার মনে হলেও আলোচনা সমালোচনায় অংশ নিয়েছেন সবাই। কারো দৃষ্টিতে ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীরা নিজেই এবং তাদের পোশাকআশাক। কেউ বলছেন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলা, ধর্মীয় এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং নৈতিক চরিত্রের স্খলনই এর কারণ।

সর্বশেষ বনানীতে আলোচনার শীর্ষে থাকা ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বেশ কয়জন পাঠকদের মন্তব্য পড়লাম। যুক্তি তর্ক শুরু হয়েছে এর পক্ষে বিপক্ষে। একজন লিখেছেন, “এমন পার্টি আমরা বন্ধুরা মিলে মাঝে মাঝেই করে থাকি। সেখানে আমরা মজা করে সবকিছুই করি। মদ খাই আর ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা দেই। এ অবস্থায় অনেককিছুই হয় আমাদের মাঝে। এবং যা করি তাদের সম্মতিতে করি। তারাও আমাদের সাথে জাস্ট মজা করে। এখন বিষয়টা এমন হয়েছে যে ফ্রেন্ডদের সাথে কোন বিষয় নিয়ে যদি মনোমালিন্য বা দ্বন্দ্ব হয় ইচ্ছা করলেই তারা আমাদের নামে থানায় ধর্ষনের মামলা দিবে আর জাতি তাদের সাফাই গাইবে! সালার বাঙ্গালরা ফকিন্নিই থাইকা গেলো!”

আমি রিপ্লাই দিলাম “ভালো খুবই ভালো ভাই ! এভাবেই পাশে থেকে ধর্ষকদের সাহস যোগাবেন!”

তাদের এমন মন্তব্যে আমার চিন্তাভাবনাগুলো চাপা পরে যাবে! তাই আর তেমন কিছু বলতে চাইনা বলে লাভও নেই। শুধু বলি প্রথমে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। তিলকে তাল আর তালকে তিল বনানোর অভ্যাস আছে আমাদের। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর চেয়েও নির্মমভাবে ধর্ষণের শিকার হয়ে তনুর মতো অনেক বোন পৃথিবী ছেড়েছে। বিচার না পেয়ে আদরের মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে অভিমানে পৃথিবী ছেড়েছে হতোভাগা পিতা! এমন অনেক ঘটনা আজ আমরা ভুলে গেছি! সেসব চাপা পরেছে ক্ষমতার ঘৃণ্য চাদরে! টাকা আর ক্ষমতার কাছে ধর্ষিত হয়েছে বহু বোনের সম্ভ্রম! আইনের শাসন নাই, ধর্ষণের বিচার নাই! তাই ধর্ষকরা অট্টহাসিতে ফেটে পরে আর ডুকরে কাঁদে ধর্ষিত বোনের আত্বা!

খুবই স্বাভাবিক! রাষ্ট্র যখন ধর্ষকের পাহারাদার, যখন ধর্ষক-লুটেরাদের ক্ষমতার দাপটে টাকার গরমে ধর্ষিতার ঋণ পরিশোধ হয়ে যায়, তখনি বন্ধু কর্তৃক বান্ধবী ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়! মসজিদের ইমাম কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়! মন্দিরের পুরোহিত কর্তৃক শিশু ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়! কি ইমাম আর কি ঠাকুর কিংবা পুরোহিত সব জায়গায় নৈতিক চরিত্রের চরম অবক্ষয়! ধর্মীয় মূল্যবোধ তো পরের কথা! নেই মানবিক মূল্যবোধ! নুণ্যতম মানবিকতা থাকলে বাবা বয়সী একজন রাক্ষস ৫ বছরের শিশুর সাথে ধর্ষণের মতো নোংরা কাজ করতে পারে? শশুর হয়ে বউ মাকে ধর্ষণের মতো ঘটনার সাক্ষী এ জাতি! এমনকি বাবার হাতে মেয়েও রেহাই পায়নি! তাহলে কি দাড়ায়? সমস্যা কোথায়? এভাবেই চলতেই থাকবে? এ মহামারী থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই? রাষ্ট্রের নীতিনির্ধকেরা এ জন্য কি কোনো পদক্ষেপ নিবেন না? তারা মোটেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না! অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে তাদেরকেই প্রথমে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নৈতিকতা, মানবিকতা, চারিত্রিক পরিবর্তন সব কিছুর আগে প্রয়োজন ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান। আর সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হতে হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা আমৃত্যু কারাদণ্ড।

Click for more Article

Facebook Comments