কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক : পোপ ফ্রান্সিস

0
173

শফিকুল ইসলাম শান্ত : শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার বিবাদমান সম্পর্ক নিরসনে তৃতীয় পক্ষ হয়ে কোন দেশকে মীমাংসার ভার নেয়ার আহবান জানালেন পোপ ফ্রান্সিস।

তিনি বলেন,কোরীয় উপদ্বীপের অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এখানে যেকোন সময়ই যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। বিশ্বকে দেখতে হতে পারে এর নারকীয় নৃশংসতা।

কেননা,পারমানবিক শক্তিধর দু,টো দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে নিশ্চিত এর পরিণতি হবে কল্পনার বাইরে। পোপ বলেন,আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার তলানিতে থাকা সম্পর্ককে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। উভয়কেই এই এব্যাপারে আরো গঠনমূলক হতে হবে। এটা এখানকার আঞ্চলিক ভারসাম্যতা রক্ষার জন্য অপিরিহার্য।কিছুদিন পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ সফরে আসবেন। তখন ট্রাম্পের সাথে এব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন পোপ।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নীতি ভঙ্গ করে একের পর ক্ষেপণাস্ত্র পরিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আর তাতেই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে দমন করতে যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ করে কোরীয় উপদ্বীপে। এতে একঘেয়ে রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পাগলামি আরো বেড়ে যায়। কিম এর পাল্টা জবাব দেয় আরেকটি অস্ত্রপরিক্ষার মাধ্যমে। ফলে নড়ে চড়ে বসে আমেরিকাসহ তার মিত্র দেশগুলো। কিভাবে উত্তর কোরিয়াকে থামানো যায় তাই নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে চীন-রাশিয়া পালন করছে ভয়ঙ্কর নিরবতা। নামে মাত্র একটু আধটু বক্তব্য দিয়ে দায় সাড়ছেন পুতিন-জিনপিং। অন্তত অদ্যাবধি তাদের বক্তব্য আর ভূমিকা দেখে এমনটাই কিন্তু মনে হচ্ছে। পুতিন তো বলেই দিলেন উভয়ই বাগাড়ম্বর চালিয়ে উপরিস্থিত খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর শি জিনপিং বললেন উভয়কেই সংযত হতে।

কথা হচ্ছে,তারা কারো পক্ষাবলম্বন করুক বা না-ই করুক বাস্তবতা এমন যে, একবার যদি দুটি দেশের মধ্য যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে তা আর দুটি দেশের মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ থাকবে না; ছড়িয়া পড়বে আশে পাশের দেশগুলোতেও। নিজেদের অস্তিত্ব টিকেয়ে রাখতে তখন প্রতিবেশী দেশগুলোও যুদ্ধে জড়িয়ে পরবে। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ব হয়তো দেখতে পারে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা !

-রয়টার্স থেক অনুবাদকৃত

Facebook Comments