স্বল্প টাকায় কলকাতা ভ্রমণ

0
753

মিনহাজুল আবেদীনঃ মাত্র কিছুদিন আগেই কলকাতা থেকে ঘুরে আসলাম খুব সহজেই। আপনিও চাইলে অল্প টাকায় ঘুরে আসতে পারেন কলকাতা শহর। আগের কলকাতা থেকে বর্তমান কলকাতায় এসেছে অনেক পরিবর্তন।

আমি ভ্রমণ করতে অনেক ভালোবাসি। রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। হঠাৎ করেই মনে হলো শুধু দেশ নয়, বিদেশেও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো উচিৎ। তাই পুরনো পাসপোর্টকে কাজে লাগিয়ে ফেললাম। বেঁছে নিলাম কলকাতা শহরকে; ঘুরে আসবো বলে। পাশাপাশি আমি বাসের রাস্তাকে বেঁছে নিলাম। আপনিও চাইলে এই পথ বেঁছে নিতে পারেন। আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু দিক নির্দেশনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

ঢাকার বিভিন্ন স্টপিজ থেকে হানিফ, শ্যামলী, ঈগল, দেশ ট্রাভেলস ইত্যাদি বিলাসবহুল বাসগুলোকে আপনার যাত্রায় সঙ্গী করে নিতে পারেন। এ পথে আপনার বেনাপোল পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগবে সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘন্টা। বাস থেকে নেমে নিজ দায়িত্বে মালামাল রেখে নাস্তা করে নিতে পারেন। অতঃপর রিক্সা কিংবা ভ্যানযোগে হরিদাশপুর কাস্টমস এ পৌঁছাবেন। সেখানে নেমে আপনি ইমিগ্রেশন ফর্মটা নিয়ে ভালোভাবে পূরণ করে সেটার সাথে ৫০০ টাকা জমা দিবেন। পাসপোর্টে গমনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিল ও তারিখ ঠিকঠাক পড়েছে কি না সেটা দেখবেন। সাথে কর পরিশোধের রশিদটা নিয়ে বের হয়ে পড়বেন ভারতের বর্ডারের উদ্দেশ্যে। সামনে একটু হাঁটতে হবে।

আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটা টোকেন সংগ্রহ করে তারপর বাংলাদেশ বর্ডার অতিক্রম করে ভারতের বর্ডারে গমন করবেন। ভেতরে একটু এগিয়ে গেলে আপনাকে চেক করা হবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে, “বাংলা কত টাকা নিয়েছেন? রূপি আছে কি? এনডোরসম্যান্ট কত আছে?” তবে যেটাই করা হোক না কেন আপনি নিজের মনোবলকে কখনই হারাবেন না এবং নিজের দুর্বলতা বুঝতে দিবেন না।
পাসপোর্টটাকে সাথে করে নিয়ে এসে, সেই(বর্ডারে প্রদানকৃত) ইমিগ্রেশন ফর্মটাকে পূরণ করে তাকে ১০ টাকা প্রদান করবেন। তারপর আপনি আবার লাইনে দাঁড়াবেন এবং ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনে গিয়ে পাসপোর্ট দিয়ে এন্ট্রি করবেন। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, কি করেন?’ আপনি সঠিক ও সরাসরি উত্তর দিবেন।

এন্ট্রি হবার পর আপনি পাসপোর্ট দেখিয়ে গেট থেকে বেরিয়ে পেট্রাপোল বর্ডারে প্রবেশ করবেন। গেট থেকে আপনি ডলার কিংবা বাংলা টাকা ভাঙ্গিয়ে নিতে পারেন। তবে সকল ক্ষেত্রে পাসপোর্টটাকে আপনার নিজের হেফাজতে রাখবেন।

সামনে এগিয়ে গেলে আপনি দেখতে পারবেন অনেক সিএনজি। তারা জোরে জোরে চিৎকার করছে, “বঁনগা”। আপনি সেটাতেই উঠবেন। পাঁচজন লোক হলেই ছেড়ে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ রূপি।

বঁনগা রেলওয়ে স্টেশন

বঁনগা পৌঁছে আপনি কিছু খেয়ে নিতে পারেন। এখানে অনেক হোটেল পাবেন। তবে দালালের হাত থেকে সাবধান এবং নিজের ব্যাগ সাবধানে রাখুন।

তারপর কাউন্টার থেকে ২০ রূপির বিনিময়ে শিয়ালদহের ট্রেন টিকিট সংগ্রহ করুন। আপনার নির্দিষ্ট ১, ২, ৩, ৪ যে কোন একটা প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবেন। তবে সাবধান ভুলেও মহিলা কামরাতে উঠবেন না।

শিয়ালদহ পৌঁছে আপনি বাসে বা ট্যাক্সি করে কলকাতার নিউ মার্কেট যেতে পারেন। সেখানে কম টাকায় আশে-পাশে অনেক হোটেল পাবেন। যেমন- K.B. Plaza, D. K Place ইত্যাদি।

তবে Incoda থেকে ট্যাক্সির টিকিট কাটলে কম মূল্যে পাবেন এবং ঝুকিমুক্ত থাকবেন।

খাবারঃ

মুসলিম খাবারের জন্য সবথেকে ভালো হবে খালেক হোটেল। তবে আপনি খাবার পাবেন ভেজ ও ননভেজ। ননভেজ খাবার বাঙালি মুসলিমদের জন্য ভালো হতে পারে। যেমন- পনির, তক্কারি, ডিমের কালি, রুটি ইত্যাদি।

মেট্রো রেলযোগে আপনি ঘুরতে পারবেন!

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল; যেখানে রয়েছে তৎকালীন সময়ের অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জিনিস, ইতিহাসের অনেক নিদর্শন।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল

গিরীশপার্ক নেমে যেতে পারেন। সোজা পায়ে হেঁটে সেই বিখ্যাত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যমাখা জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে। যেখানে তার স্মৃতি সর্বদা লালন করে নিয়ে বেড়াচ্ছে তার ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সমাগম।

জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি

এসপ্লানেড নেমে আপনি দেখে আসতে পারেন বিরাট স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেন।

ইডেন গার্ডেন

দেখতে পারেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম; যেখানে শ্বেত পাথরের তৈরি অনেক নিদর্শন রয়েছে।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম

দেখতে ভুলবেন না হাওড়া স্টেশনের পাশেই অবস্থিত সেই হাওড়া ব্রিজ। যেটি সপ্তম আশ্চর্যের একটি অংশ বিশেষ।

শপিং এর জন্য কম টাকায় ভালো হবে নিউ মার্কেট।

খরচঃ

যাওয়াঃ
১। বাস ভাড়া – ৫৫০/- (সোহাগ, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ, দিগন্ত)
২। নাস্তা – ২০/-
৩। অটোরিক্সা – ২০/-
৪। ট্যাক্স পরিশোধ – ৫০০/-
৫। ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ – ১০/-
৬। সিএনজি ভাড়া – ২৫ ₹
৭। ট্রেন ভাড়া – ২০ ₹
৮। হোটেল ভাড়া ১ দিন – ৬০০ ₹ (২ দিন ১২০০ ₹)
৯। দুপুরের খাবার – ৮০-৯০ ₹
১০। মেট্রো রেলে সব জায়গায় ঘোরা – ৫ * ১০ = ৫০ ₹
মোট= ২,৮০৪ /- (দুই দিনে)

ফেরত আসাঃ
১। বাস ভাড়া – ৯ ₹
২। ট্রেন ভাড়া – ২০ ₹
৩। সিএনজি ভাড়া – ২০ ₹
৪। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন – ৫০/-
৫। বাস ভাড়া (ঢাকার উদ্দেশ্যে)- ৫৫০/-
মোট = ৬৬০/-

সর্বমোটঃ
যাওয়া + ফেরত আসা – ২৮০৪ + ৬৬০ = ৩৪৫৪/-

সকল প্রকার কাজের ক্ষেত্রেই দালালের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকবেন এবং নিজের কাজ নিজে করার জন্যই চেষ্টা করবেন।


সকল কিছু দেখার মাঝেই আপনি আপনার নিজের সত্ত্বার অস্তিত্বকে খুঁজে পাবেন।

Facebook Comments