‘স্ত্রীর পত্র’ ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী

0
427

আফরোজা আলিম আশা: রবীন্দ্রনাথের গল্প গুচ্ছের “স্ত্রীর পত্র” গল্পে সেই সময়কার নারীদের চিত্র তুলে ধরেছিলেন কবি গুরু। সেই সময়ের সাথে এখনকার নারীদের চিত্র তুলে ধরলে বুঝতে পারবো নারীদের অবস্থান কত টুকু বদলেছে।

নারীদের জীবন মৃলাণ এর আক্ষেপ আকারে গল্পে তুলে ধরেছেন কবি গুরু। মেয়েদের ১২ বছর বয়সে বিয়ে না হলে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে উঠতো। এখনই বা কতটুকু বদলেছে। আমাদের দেশে বাল্য বিবাহের হার কমানোর জন্য সরকার মেয়েদের ১৮ থেকে ১৬ তে কমিয়ে এনেছিলো বিয়ের বয়স। স্ত্রীর পত্রে নারীর জীবন কে দেখানো হয়েছে শুধু রান্না ঘরে আবদ্ধ জীবন, সে শুধু বাড়ির বউ এটাই তার পরিচয়। তার নিজের ও যে একটা স্বত্তা আছে তা কারো খোজার দায় ছিলোনা। এখন আমরা কি দেখছি? কয় জন নারী বিয়ের পর চাকুরি বা অন্য কাজ করছে? যারা কাজ করছে তাদের পরিমাণ পরুষের তুলনায় অনেক কম। গল্পে বিন্দু চরিত্রের আবির্ভাব সবার মনেই দাগ কাটে। আমাদের সমাজে এই বিন্দুর মতো কতো বিন্দুই রয়েছে। মেয়েদের কদর শুধু রূপে। যা আমাদের আধুনিক সমাজে এসে আরো ভয়ানক আকার ধারন করেছে। গল্পে একটা কথা ছিল-এক সে (বিন্দু) মেয়ে তার উপর কুৎসিত রূপ। তার মানে কি দারায়? মেয়ে হয়ে জন্মিয়ে এমনি সে পাপ করেছে তার উপর আবার কদাচিৎ তার রূপ।গল্পের বাইরে আমাদের সমাজে দৃষ্টি দিলেই দেখতে পাই কালো মেয়েদের কি কদর। বিয়ের জন্য কালো মেয়েদের রং ফর্সাকারি ক্রিম ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। আর কেনোই বা করবেনা ছেলের বউ হিসেবেতো প্রতিটা মায়েরই ফর্সা মেয়ে চাই। বিভিন্ন চাকির ক্ষেত্রে দেখা যায় একই গুনের ২টি মেয়ে থেকে বাছাই করে নেওয়ার সময় সুন্দর মেয়েটা কেই আগে নেওয়া হয়। কেন এই দৃষ্টি ভঙ্গি ? এখনো কি সময় হয়নি নারীদের মানুষ ভাবার? গল্পের শেষে দেখা যায় সমাজের সাথে না পেরে বিন্দু আত্মহত্যা করে। প্রতি দিনের নিউজ দেখলেই আমরা কোন না কোন নারীর আত্মহত্যার খবর পাই।

শত বছর আগে নারীর অবস্থান যেমন ছিলো এখনো তাই আছে। বদলায়নি কিছুই। গল্পে মৃলাণ যে ভাবে সমাপ্তি টানে -“বেঁচে আছি বেঁচে থাকবো বেঁচে থাকাটাই জীবন ” আমি এই ভাবে সমাপ্তি টানছি না। জন্মেছি নারী হয়ে কিন্তু বেঁচে থাকতে চাই মানুষ হয়ে, আর মানুষ হয়ে বেঁচে থাকাটাই জীবন।

Facebook Comments