রাজনীতির রঙ্গালয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে সাংবাদিকতা!

0
359

আলতাফ হোসাইন : পরাধীন ব্রিটিশ থেকে ঔপনিবেশিক পাকিস্তান আমল। দীর্ঘ এক পথ-পরিক্রমা। এ সময়ে রাজনীতি,সাংবাদিকতা, সাহিত্য জগতে যারা ছিলেন পথিকৃৎ তারা দেশ বা জাতির স্বার্থে অভিন্ন ভূমিকা পালন করতেন। যদিও ওই সময়কার নেতৃবৃন্দের আদর্শিক পথ বা চেতনা ছিল ভিন্ন। কিন্তু রাষ্ট্রের জনগণের প্রশ্নে তারা ছিলেন অভিন্ন।

কাজী নজরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, কাঙাল হরিণাথ মজুমদার, বারীন্দ্র ঘোষ, মাওলানা আকরাম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মোহাম্মদ মোদাব্বের, মাওলানা মুজিবর রহমান, আবুল মুনসুর আহম্মদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া প্রমুখরা ছিলেন এই উপমহাদেশে বাংলা সাংবাদিকতা জগতের দিকপাল। এসব ব্যক্তি একাধারে দার্শনিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সুসাহিত্যিক ছিলেন। তারা ছিলেন শতভাগ দেশপ্রেমিক। তারা দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে ব্রত ছিলেন। তারা অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন করেছেন। আমজনতার রাজত্ব কায়েমে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন। অবশেষে জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করেছেন।

বর্তমানে স্বাধীন দেশে নির্ভীক বা সৎ সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যম । আকাল দেখা দিয়েছে সৎ সাংবাদিকতার এ কথা বলি না। তবে সংখ্যায় তারা খুব বেশি নয়। কারণ বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন গতি হারিয়েছেন। মূল শিকড় থেকে দূরে সরে গেছেন। অনেকে দাস সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়েছেন। সস্তা কিছু প্রাপ্তির আশায় রাজনীতির রঙ্গালয়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন। তবে সব যে একই পথের পথিক তা কিন্তু নয়। আসলে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম অন্য দশটি ব্যবসার মতো কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। শুধুমাত্র মুনাফা লাভই তার উদ্দেশ্য নয়। এক সময় গণমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক আদর্শের অনুরাগী হলেও গণমানুষের স্থান ছিল সবার আগে। গণমানুষের অধিকার আদায়ে প্রাধান্যতা ছিল বেশি। সংবাদ মাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্টরা দেশ-জাতির স্বপক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতেন। প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীন নীতিমালা থাকে। আদর্শ থাকে। সম্পাদকীয় রীতিনীতি থাকে। তবে সব রীতিনীতি এবং আদর্শের মর্মমূলে অবস্থান করে গণমানুষের অধিকারের কথা। জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা।

দেশের মানুষ হলুদ বা দাস সাংবাদিকতাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। তাই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সম্পাদক-সাংবাদিককে নির্ভীক, নির্লোভ ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যম জাতির দর্পণ শুধু কাগজ-কলমে নয়, বক্তৃতা-ভাষণে নয়; জাতির বিবেকের ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনীতির মোহমুক্ত হয়ে সাংবাদিকতা করতে পারলেই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা  থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে। জনগণের অধিকারের কথা, দেশের কথা সর্বাগ্রে পত্রিকার পাতায় স্থান দেয়া উচিত। তখন বলা যাবে সংবাদপত্র গণমানুষের অধিকারের কথা বলে। মজলুমের পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালন করে। স্মরণ রাখা উচিত, মিথ্যা কথা বা খবর ছড়ানো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এমনকি সৃষ্টিকর্তার কাছেও স্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ!কোনো ধর্মই তা সমর্থন করে না! ইসলাম ধর্মে এ সম্পর্কিত ধর্মীয় বাণী কোরআন-হাদিসে উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্মের উপদেশ হলো, কোনো রকম ভুল বা মিথ্যা সংবাদ যাতে না ছড়ায় সে জন্য সংবাদ সংগ্রহের সময় দৃষ্টিশক্তি প্রখর রাখতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন:

 إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ (6﴾   الحجرات
অর্থ: যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত: তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (সূরা হুজুরাত: ৬)
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন:
 عن أبي هريرة عن النبي  كفى بالمرء كذباً أن يحدث بكل ما سمع “
فالحديث رواه مسلم في  “مقدمة صحيحه ” ( 1 / 107  نووي ) ، وأبوداود ( 4 / 298 / 4992 ) ، ابن حبان
অর্থ: মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট, যা শুনবে তা যাচাই ছাড়া বর্ণনা করা। মুসলিম শরীফের ভূমিকা আবু দাউদ ৪/২৯৮ ইবনে হিব্বান, ১/২১৩ )
যেখানে আল্লাহ এবং রাসূল (সা:) এমন কথা বলেছেন সেখানে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের কথা কত টুকু গুরুত্ব বহন করে। পরিশেষে বলতেই হয়, সস্তা কিছু প্রাপ্তির আশায় রাজনীতির রঙ্গালয়ে যারা হাবুডুবু খাচ্ছেন, অন্তত সৃষ্টি কর্তার ভয়ে হলেও সৎ সাংবাদিকতা চর্চা শুরু করা উচিত।
তথ্য সূত্র : বই, সাংবাদিকতায় আলোকিত জনেরা।

মারেফুল কোরআন এবং হাদিস গ্রন্থ : রিয়াদুস সালেহীন।

যার ভালবাসার তুলনা হয় না >’তুখোড়’ এ প্রশংসিত রাতাশ্রী> Click for more article…

Facebook Comments