যার ভালবাসার তুলনা হয় না

0
420

 যার ভালবাসার তুলনা হয় না

-আলতাফ হোসাইন
ছোট্ট একটি জীবন । তারপরও কতো কিছুই না করতে চায় মানুষ । জয় করতে চায় বিশ্বকে । মানুষ কবিতা লিখতে চায়, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকতে চায়, চাঁদে গিয়ে বসে থাকতে চায়। আবার চাঁদ থেকে বালু নিয়ে ফিরতে চায়। আরও কত কি! ভাবতে ভাবতে কর্মময় জীবনের আরও একটি দিন শেষ। এরপর রাত যখন গভীর হয়, আকাশটা  যখন ঝিকিমিকি নীল তারাতে ভরে যায়, তখন চোখ বড় বড় করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। আর শিশুদের মতো অনেক আগ্রহ নিয়ে বুঝতে চাই নীল তারাগুলোকে। ছায়াপথগুলো ও বিশাল বড় মহাবিশ্বটা নিয়ে ভাবতে থাকি। এসব কিছুর সাথে যোগ হয় আরো এক ভাবনা। দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে নিজেকে প্রশ্ন করি, কে আমি? কোথায় ছিলাম? কিভাবে আসলাম এই রঙিন পৃথিবীতে? কে পাঠালো এ ধরণীতে? কেনই বা পাঠালো? এভাবে ছড়াতে থাকে ভাবনার জালগুলো। ভাবতে ভালোই লাগে। কি সুন্দর পৃথিবী! কি কারুকাজে সৃষ্টি এ ধরা! এখানে না আসলে তো আর এমন সুন্দর পৃথিবী দেখার সৌভাগ্য হতো না!
হঠাৎ করে মনে হলো, এই রঙিন পৃথিবী দেখার পিছনে যার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রয়েছে সে মানুষটি তো আর কেউ নয়। তিনি হলেন আমার মা! এই নামটি সবার জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জন্মের পূর্ব থেকেই যেমনি মায়ের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে তেমনি জন্মের পর শিশুর বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম। মায়ের ভূমিকার নেই কোনো জুড়ি। মা`য়ের তুলনা হয় না কোনো কিছুর সাথে । পৃথিবীতে ভালোবাসার মানুষ তো একজনই! তিনিই মা।

মা ও বাবা দুজনেরই সমান অবদানের কথা বলা হলেও বাবা খানিকটা আড়ালেই থাকেন মায়ের অপরিসীম আর অনবদ্য ভূমিকার কারণে। মা হলো একাধারে অভিভাবক, বন্ধু বা কাছের একজন, যাঁর সঙ্গে অভিমান কার যায়, আবার নিজের ভেতরের সবকিছু উগড়ে দেওয়া যায়।

পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্ট হবে যে মাকে ভালোবাসে না। ব্যতিক্রমের বিষয়টা বাদ দিয়ে এটাই আমাদের সাধারণ জীবনের অসাধারণ এক সমীকরণ। যে বৃত্তে বন্দি প্রায় প্রতিটি প্রাণী; শুধু মানুষ বললেই ভুল হবে, প্রায় প্রতিটি জীবই মাতৃত্বের এই আলোকসামান্য গোলকধাঁধার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। একবার চিন্তা করে দেখুন তো, মাতৃত্বের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যদি ব্যাহত হতো। তাহলে অবস্থাটা কী হতো? আর যাই হোক, যে এক জীবনে মাকে পেল, সে মা’কে হারাতে চাইবে না কোনো দিন। মা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন। এই পৃথিবীতে মা ছাড়া কেউ তাঁর সন্তানকে স্বার্থহীনভাবে ভালোবাসে না। মায়ের ভালোবাসার মধ্যে আছে প্রকৃত সুখ। দূর গাঁয়ে ফেলে আসা মায়ের মুখ, মায়ের স্নেহ ছায়ায় বেড়ে ওঠা, মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার বেদনা কিংবা সাতসমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে দূর অজানায় পাড়ি জমানোর পর মায়ের স্মৃতি। এসবই আমাদের প্রতিনিয়ত পোড়ায়। হু-হু করে ওঠে বুকের ভেতরটা। আর যখনই মায়ের কথা মনে পড়ে, মনের অজান্তেই চোখ ভিজে যায়। ইচ্ছা করে ছুটে যাই মায়ের কাছে। একচিলতে আদর আর শাড়ির আঁচলে মুখটা বেঁধে ডুব দিই ভালোবাসার সাগরে। জন্মের সূচনাপর্ব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদান অতুলনীয়। কাজী কাদের নেওয়জের কথাগুলো মনের মনি কোঠায় উকি দিচ্ছে বার বার।

“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,

ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভূবনে নাই”

দিবালকের ন্যায় স্পষ্ট ‘মা’ নামটি অতি ছোট্ট হতে পারে। কিন্তু তাতে রয়েছে অজস্র মধু। কারণ মা’য়ের মুধুমাখা ভালোবাসার কাছে পৃথিবীর কোনো ভালবাসার তুলনা হয় না । শৈশব থেকে এ সব নিয়ে প্রায় ভাবনার মধ্যে দিন কাটে, রাত কাটে। আজ আমি শহরে, আর ‘মা’ গ্রামে । তাই ইট পাথরের এই শহরে নিস্তব্ধ রাতে একাকী বিল্ডিং এর ছাদে বসে শুধু মা’য়ের কথাই ভাবছি আর গাইছি…
পৃথিবীতে ভালোবাসার মানুষ একজনা,
যার পায়ের নিচে বেহেস্ত আমার সেইতো আমার মা ।
Facebook Comments