ভিক্ষুক বলতে কিছু নেই, সবাই ব্যবসায়ী: ভিক্ষুক নিজেই

0
256

রাতুল তালুকদার: রাজধানীর উত্তরা-রাজলক্ষ্মী। কথা হল এক ৬০ এর বেশি বয়সী এক কথিত ভিক্ষুকের সাথে। অর্থাৎ তারই ভাষায় ব্যবসায়ীর সাথে। প্রায় ২৫ বছরের বেশী সময় ধরে তিনি এ পেশায় রয়েছেন। তবে  তিনি তার নাম ঠিকানা দিবে না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

জিজ্ঞেসা করলাম কেন এই পেশা আসলেন? কত আয় দিনে/মাসে?

শুরু করলেন সে, এ পেশায় আসাটা একটা দূর্ঘটনা হলেও এখন সে এটায় আনন্দিত। সে আরো বলেন, এখন অনেকেই ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকলাঙ্গের রুপ নিয়ে এ কাজে জড়িত। এ কাজকে ব্যবসা বলার কারণ জানতে চাইলে সে বলেন, এদের একজন সর্দার আছে আছে তাদের নির্দিষ্ট এলাকা। কেউ কারো এলাকায় ভিক্ষা করতে পারবে না। করতে চাইলে সর্দারদের অনুমতিক্রমে করতে হবে। এর জন্য লাগবে টিকিট।

সর্দাররা ঠিক করে দিবে কে কোন এলাকাজুড়ে ভিক্ষা করবে। এলাকার উপর ভিত্তি করে দিন শেষে টাকা জমা দিতে হবে। কোন বিশেষ দিনে তাদের টার্গেট বেঁধে দেয়া হয়। টার্গেট পূরণ করলে নাকি বোনাসও পাওয়া যায়। তাদের নাকি আবার ছুটির ব্যবস্থাও আছে!

লোকটার কথা গুলো শোনার পর আমি বাকরুদ্ধ!

কি একটা চাকুরী তাদের, টার্গেট, বোনাস, আবার ছুটিও!

আয়ে কথা শুনে মাথা ঘুরে গেল। সারাদিনে কম হলেও ১০০০ টাকা। সর্দার পায় ৪৫০ টাকা। তার মানে মাসে ৫৫০* ৩০= ১৬৫০০ সর্বনিম্ন আয়। কোনকোন মাসে ৩০০০০+ ও নাকি হয়।

Facebook Comments