২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

0
147

চাহিদা অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারেও অভ্যস্ত করা হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীদের; পাঠদান করা হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে।

তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযুক্তির সমন্বয় প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করবে বলে মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উঁচুমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি সম্ভব নয়। তাদের মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে; নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত। এই ভিত মজবুত না হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানও দুর্বল হবে। জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্যানেল ও পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ শিগগির সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশের পর এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ চলবে ধারাবাহিক নিয়মের মধ্য দিয়ে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ পাওয়ায় প্যানেল ও পুলভুক্ত সব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে জটিলতা কেটে গেছে। শিগগির এসব তালিকায় থাকা শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

জানা গেছে, ২০১১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৪ হাজার ৬০৯ জনের মধ্যে ১২ হাজার ৭০১ জনকে নিয়মিত সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবশিষ্টদের মধ্যে ১৫ হাজার ১৯ জনকে পরবর্তী সময়ে নিয়োগের জন্য ‘পুল শিক্ষক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ শুরু হলেও সবাই নিয়োগ পাননি। শেষ পর্যন্ত তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। রায় পক্ষে গেলেও নিয়োগ না পাওয়ায় শুরু হয় আন্দোলন।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষাবিদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উঁচুমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি সম্ভব নয়। কারণ প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয়।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পুল ও প্যানেলে থাকা সব শিক্ষককেই নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তবে নিশ্চিত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। কারণ এই প্যানেল ও পুল করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে এসব প্যানেল ও পুলে থাকা অনেকেই বিভিন্ন চাকরিতে যোগদান করে থাকতে পারেন।

গত ২১ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদে ‘পুলভুক্ত শিক্ষক’দের নিয়োগের আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পুল শিক্ষকদের করা রিট মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৬১ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দিতে বলা হয়। এ নিয়োগ চলছিল ধাপে ধাপে। গত বছরের শেষ দিকে প্যানেল ও পুলভুক্ত শিক্ষক ছিলেন প্রায় ২৮ হাজার। তবে ধাপে ধাপে নিয়োগ দেওয়ার পর এই সংখ্যা কমে বর্তমানে ২৪ হাজারে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করা হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই সেসব বিদ্যালয়ে আগে সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সরঞ্জাম দেওয়া হবে। শিশুদের ছোট থেকে তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত করতে এই উদ্যোগ। প্রাথমিক স্কুলগুলোয় প্রধান শিক্ষক শূন্যপদে শতকরা ৩৫ ভাগ সরাসরি এবং ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে দেওয়া হবে।

দেশে বর্তমানে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ জন। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১০০ জনকে।

Facebook Comments