ভাগ্যের কাছে হারলেন মিসবাহ

0
401
৯৬ রানে অপরাজিত থেকে ফিরছেন। তখনো জানতেন না, সেঞ্চুরিটা এভাবেই এত কাছে এসেও এত দূরে থেকে যাবে। ৪০ পেরিয়ে এসেও সেঞ্চুরি কিংবা রান যেন দুধভাত মিসবাহ-উল হকের জন্য। কিন্তু সেটি টেস্টে। চলতি শারজা টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিন, কিংবা আরও একটু দীর্ঘায়িত করুন ক্যারিয়ার, মিসবাহ এই আক্ষেপ নিয়েই বিদায় নেবেন, ইশ্‌ ওয়ানডেতে একটা সেঞ্চুরি পেলাম না!
ওয়ানডে ক্যারিয়ারটাকে আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন। ১৬২ ওয়ানডেতে ৫ হাজারের বেশি রান। ৪২টি ফিফটি আছে, কিন্তু সেঞ্চুরি নেই একটিও! পাঁচ হাজার তো দূরের কথা, ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ছাড়া ৪ হাজার রানই নেই আর কারও। ওয়ানডে সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন দুবার। মানে দুটো নব্বইয়ের ইনিংস আছে। না, আউট হননি। অপরাজিত ছিলেন। তাই তো দুঃখটা আরও বেশি।
২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। আরও দুই ওভার বাকি ছিল ইনিংসের। কিন্তু ওপাশে একে একে সবাই যে আউট হয়ে গেলেন! তারও দুই বছর আগে ওই সঙ্গীতেই সর্বনাশ হয়েছিল। না, এবার আউট হওয়ায় নয়, স্ট্রাইকিং প্রান্তের সঙ্গী বাড়াবাড়ি রকমের ভালো খেলে ফেলায়। জয়ের জন্য ১২ বলে ১৩ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ৯৩ রানে অপরাজিত মিসবাহ। ওই ওভারেই তিনটা  আর আর একটা ডাবলস নিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন সোহেল তানভীর।
মিসবাহর দুঃখটা সবচেয়ে ভালো বুঝবেন সুনীল গাভাস্কার। মিসবাহর তবু নয় টেস্ট সেঞ্চুরির বিপরীতে ওয়ানডেতে কোনো সেঞ্চুরি নেই। গাভাস্কারের কথা ভেবে দেখুন। তখন তিনি রীতিমতো বিশ্ব রেকর্ডের মালিক। টেস্টে ৩৪ সেঞ্চুরির কীর্তি আর কারও নেই। সেই গাভাস্কারের নামের পাশে কিনা কোনো ওয়ানডে সেঞ্চুরি নেই!
এরই মধ্যে চলে এল ১৯৮৭ বিশ্বকাপ। গাভাস্কারের বিদায়ী টুর্নামেন্ট। অবশেষে গাভাস্কার পেলেন ওয়ানডের প্রথম সেঞ্চুরি! সেটিও ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডের ঠিক আগের ম্যাচে!
নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের একজন কর্মকর্তা আজও মনে রেখেছেন ২৮ বছর আগের সেই ঘটনাটি। মনে রাখবেন না-ই বা কেন। গাভাস্কারের একমাত্র ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা যে এসেছিল এই মাঠে। ১০৬ ওয়ানডে খেলেও এর আগে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। অবশেষে নাগপুরে সেই নাগপাশ থেকে মুক্তি।
গাভাস্কারের একমাত্র ওয়ানডে সেঞ্চুরিটির ২৮ বছর পূর্ণ হয়েছে অক্টোবর মাসের শেষ দিনটিতে। কিন্তু ঐতিহাসিক এই ঘটনার বর্ষপূর্তির মুহূর্তে কেন যেন পাকিস্তান টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহর কথাই ঘুরে ফিরে আসছে। ১৬২টি ম্যাচ খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতিই টেনে দিয়েছেন ওই একটি শূন্যতা নিয়েই।
Facebook Comments