গরু পোড়ানোর ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা যায়নি

0
204

মেহেরপুর : পরিকল্পিত ভাবে দুর্বৃত্তরা গত জানুয়ারী মাসের ১৩ তারিখে দিবাগত রাতে চারটি গরু পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরের দিনই গাংনী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। যার নং ৭০৮, তাং ১৪/০১/২০১৭ ইং। প্রায় ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের এখনও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, পরিকল্পিত ভাবে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ ঘটনার আগে পানি সরবরাহের পাইপ বা নল আগে থেকেই কেটে রাখে। আগুন লাগার পর দ্রুত পাম্প থেকে পানি সরবরহ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা মনে করেন কেউ আগুন না লাগিয়ে দিলে ঘরে যেকোন জায়গায় আগুনের সুত্রপাতে প্রমাণ থাকবে। আর গরুর শরীরে ছাড়া অন্য কোন জায়গায় আগুনের সুত্রপাত পরিলক্ষিত হয়নি। যদি অন্য জায়গা থেকে আগুনের সুত্রপাত হতো তাহলে সে স্থানে আগুনের অস্তিত্ব থাকতো। এ ক্ষেত্রে গরুর শরীরে আগুনের লেলীহান শিখা থেকে গোয়ালের টিনের নিচের দিকে লাল হয়ে যেতে দেখা যায়। এমনকি গরুর গায়ে থেকে পেট্রোলের গন্ধও নাকি পাওয় যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।

গরু পোড়ানোর বিষয়ে গরুর মালিক আনারুল ইসলাম জানান, কে বা কারা এ কাজ করেছে তা আমি বলতে পারবনা। তবে বিগত দিনে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ভোটে তিনি একটি পক্ষে কাজ করেন। তিনি এ পক্ষপতিত্বকে কারণ হিসেবে মনে করছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আরিফ- উজ-জামান জানান, ঘটনাটি অবশ্যই অমানবিক। এঘটনার দিন সকালে নির্বাহি কর্মকর্তা ও গাংনী থানার ওসি তদন্ত কাফরুজ্জামান পরিদর্শনে যান। নির্বাহি কর্মকর্তা ভুক্তোভোগির সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এবং এ ধরণের ন্যাক্কার জনক ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে যাতে দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায় সে বিষয়ে তিনি কাজ করবেন বলে জানান।

গরু পোড়ানোর বিষয়ে গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান,ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তোভোগি এ বিষয়ের উপর নির্দিষ্টভাবে দোষীদের নাম জানাচ্ছেন না। তবে যেহেতু সামাজিক অপরাধীদের সনাক্ত করতে জনগণের কাছে আমরা দ্বায়বদ্ধ আজ হোক কাল হোক এ ধরণের ন্যাক্কার জনক ঘটনায় যারা জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে বাদী বা ভুক্তোভোগিকে তধ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তার তথ্যের উপর অপরাধীদের ধরা সহজ হবে।

ওসি তদন্ত কাফরুজ্জামান জানান, আমরা বার বার চেষ্টা করেছি বাদী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামানের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য কিন্তু তারা কোন তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন নি। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন অপরাধী তো অপরাধীই সে যতবড় অদৃশ্য শক্তির লোকই হোক না কেন তাকে আমরা আইনের আওতায় আনবো।

ভুক্তোভোগি আনারুল ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অপরাধীরা বেশ ক্ষমতাশালী এবং এখনও ভুক্তোভোগির বাড়ির আশপাশে গভীর রাতে পদচারণা করে। ভুক্তোভোগি আনারুলকে দায়ীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি নির্দিষ্ট ভাবে নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারন হিসেবে তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে রিতিমত আতংকিত বলে জানান। অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হলে অবশ্যই বাদী বা অভিযোগ কারিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তা না হলে অপরাধীরা একের পর এক অপরাধ করে যাবে অথচ তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যাবেনা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। ফলে এক সময় ঐ এলাকা অপরাধীদের অভায়ারণ্যে পরিণত হবে।

মোঃ হাসনাত জামান সৈকত,
মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি।

Facebook Comments