মধ্যপ্রাচ্যে সংকট কেন !

0
850
ফাইল ছবি

আব্দুল মুক্তাদীর বাবু: বিংশ শতাব্দীর পুরোটা সময় জুড়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট যত বেশী আলোচিত হয়েছে, অন্য কোন সংকট এত বেশী আলোচিত হয়নি মধ্যপ্রাচ্য সংকট মূলত কেন্দ্রিভূত ছিল ফিলিস্তিন তথা আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইসরাইলের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। এই দ্বন্দ্বের সূরাহা এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে সমাধান হয়নি ।
শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় উপমহাদেশের অনেক দেশের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে স্বপনের দেশ মনে করত, অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সেই রাষ্ট্রগুলো, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ তেল উৎপাদন কারি রাষ্ট্রসমূহ মধ্যপ্রাচ্যেই অবস্থিত তারা অর্থনৈতিক দিক দিয়েও অনেক শক্তিশালী ।

কিন্তু হঠাৎ কী হলো মধ্যপ্রাচ্যে ? শুরু “আরব বসন্ত” নামে নতুন এক গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের যা গণতান্ত্রিক আন্দোলন নামেও পরিচিত পেয়েছিল যার সূচনা হয়েছিল “তিউনিশিয়ায়” কিন্তু এর প্রথম প্রভাব পড়েছিল “মিশরে”। প্রেসিডেন্ট মোবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্য লাখো মানুষ জড় হয়েছিল তাহরির স্কায়রে। গণতান্ত্রিক ভাবে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন “ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি” কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হলেন পশ্চিমা মদদপুষ্ট সেনাপ্রধান “আব্দুল্লাহ আল ফাতাহ সিসি” দ্বারা। বিনিময়ে জীবন দিতে হয়েছিল শত শত “মুসলিম ব্রাদারহুড” সমর্থকে। ঠিক একই ভাবে কথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন আমেরিকার কৌশল এবার লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ক্ষমতাচ্যুত এবং নিহত হলেন পশ্চিমাদের ঘোর বিরোধী এবং সুদক্ষ সংগঠন ও শাসক গাদ্দাফী। বর্তমানে লিবিয়া খন্ড খন্ড এলাকায় বিভক্ত এবং শাসিত, পশ্চিমা মদদপুষ্ট প্রধানমন্ত্রী থাকলেও বিরোধী গ্রুপ এর সংখ্যা অজানা।

সিরিয়ায় একই কৌশল অবলম্বন করেছে পশ্চিমারা কিন্তু সাহায্য করেছিল স্থানীয় নাগরিকরা যারা গণতন্ত্রনের জন্য ব্যাকুল ছিল। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এখনও ক্ষমতাচ্যুত হয়নি পশ্চিমাদের দ্বারা। পশ্চিমাদের ব্যাপক বিমান হামলার পরও সিরিয়ায় এখনো আসাদ সরকার ঠিক আছে তার কারণ পুরোনো মিত্র রাশিয়া, ইরান, লেবানন এর যুদ্ধে সরাসরি সাহায্য কিন্তু ইতি মধ্যে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার নিরিহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে এই গৃহযুদ্ধে।
কথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বশেষ শিকার  “ইয়েমেন” যারা এবার আক্রান্ত সৌদি জোট দ্বারা ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে প্রতিনিয়ত স্থানীয় হুথী বিদ্রোহীদের হামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সৌদি জোটকে।
মধ্যপ্রাচ্যের আর এক দেশ ইরাক। মুসলিমদের পবিত্র নগরী যা সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর মোটামুটি স্থবির হয়ে পরেছে এবং যে ব্যাপক অরাজকতার সূচনা হয়েছিল তার শেষ এখনো হয়নি।

সিরিয়া,ইরাক, লিবিয়া,ইয়েমেন এই সব দেশে শুধুমাত্র মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থের জন্য এবং তাদের মদদে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ এখন সেখানে চলছে। প্রথমে মার্কিন সরকার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলেও পরবর্তিতে আবার কথিত ভাবে তাদের বিরুদ্ধেই আক্রমণ !! যার কারনেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আজ জঙ্গীবাদের উত্থান বিশেষ করে সুন্নি নিয়ন্ত্রিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এর হঠাৎ উত্থান এবং বিশাল এলাকায় তাদের কর্মকান্ড যা সত্যিই বদলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে উপরের আলোচনায় এটাই বুঝানো হয়েছে কি কারনে মধ্যপ্রাচ্যে আজ এই অরাজকতা।যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাদের তৈরি আই এস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে যাকে কিনা অবহিত করা যায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ যুদ্ধ হিসেবে। এই যুদ্ধগুলোয় জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলোর কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে কারন তারা জানে মরছে আই এস জঙ্গীরা সত্যিকার অর্থে মারা যাচ্ছে নিরিহ মানুষেরা আর এই সত্যটা কি বিশ্ব জানতে পারবে না কখোনই ?

এসব কারনেই শুরু ইউরোপের নয়া সমস্যা “অভিবাসন বা শরনার্থী” সংকট। যারা আজ সীমান্ত পাড়ি দিতে ইউরোপে যাচ্ছে বা যেতে চা্েচ্ছ তারা কোন দরিদ্র দেশের অধিবাসী নয় তারাও ধনী দেশের নাগরিক ছিল। তাদের এই দু:অবস্থার জন্য দায়ী শুধুমাত্র ইউরোপ এবং আমেরিকা। ছোট শিশু “আয়নাল” সবাইকে কাঁদিয়েছে আর যেন বিশ্বকে এমন হৃদয় বিদারক ছবি দেখতে না হয়। সীমান্তে শরণার্থীদের সাথে যে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে, তা যেন অচিরেই বন্ধ করা হয়। তারা সবাই মুসলিম শরণার্থী এ জন্য কি তাদের সাথে এমন আচরণ ? সারা দুনিয়ার মানবাধিকার কর্মীদের কাছে এ প্রশ্ন থাকলো।নিঃস্বার্থভাবে এবং সন্মানের সাথে ইউরোপকেই এই অভিবাসন সমস্যার সমাধান করতে হবে তা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।

মো: আব্দুল মুক্তাদীর বাবু
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

Facebook Comments