বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল চাল

0
695

শফিকুল ইসলাম শান্ত : শিক্ষা একটি অপরিহার্য মৌলিক অধিকার । একই সাথে শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। জ্ঞানতাপসগন বলে থাকেন যে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের জনসম্পদ ।তাহলে তাদের সম্পদে রূপান্তর করেছে যে শিক্ষা তার স্বরূপ কি ? পূর্বে শিক্ষা ক্ষেত্রে নকলের যে সয়লাভ ছিল বর্তমানে তা স্বমুলে উৎপাটিত হইয়েছে । নিঃসন্দেহে এটা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য । কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সাধিত হয়েছে কি ?বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল পদ্ধতি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি । কিন্তু এই পদ্ধতি দ্বারা আমরা কি আমদের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য সাধনে সঠিকভাবে এগোচ্ছি ?

আমদের দেশে সাধারণত ৪ – ৫ বছর বয়স থেকে শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করে। প্রাথমিকে পাঁচ বছর,তার পরে নিম্ন মাধ্যমিকে ৪ বছর মোট ৯ বছর পড়া-শোনা করে তারপরে চিন্তা করতে হয় আমি কি হবো ? আমাকে কোন গ্রুপ নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে ? অর্থাৎ আমাকে আমার জাত চিনাতে লাগবে ৯ বছর ।আর এই নয় বছর আমি আমার শিক্ষা পদ্ধতির পরিভাষায় জগাখিচুড়ি ।কারন আমি যেই বিভাগ নিয়ে ই পড়াশুনা করার পরিকল্পনা করিনা কেন আমকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সকল বিভাগের পড়া পড়তে হবে । তাহলে ব্যাপারটা এই দাঁড়াল যে স্কুলে যাওয়া ৫ বছরে । আর কে কোন গ্রুপ নিয়ে পড়া শোনা করবে তা নির্ধারণে ৯ বছর । মোট ১৪ বছর । কি দারুন ব্যাপার! ১৪ বছর বয়সে ৯ বছর পড়াশুনা করে আমি চিন্তা করব আমি এখন কি পড়ব?

তার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া । ভাগ্যবান যারা তাদের জন্য হাতে গনা কতিপয় আসন থাকলেও বাকিদের কপালে আর আসন মেলে না।বাধ্য হয়ে ভর্তি হতে হয় জাতীয় আথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের তীর্থের কাক সাদৃশ অপেক্ষা সেশন জটের মত তীব্র তিক্ততা । আর সব মিলিয়ে শিক্ষা যখন পরিপূর্ণ, তখন চাকুরির খোঁজে বেকারত্মের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে সারা শহর পরিভ্রমণ হয় ।বাবার পকেটের টাকা দিয়ে কেনা নতুন জুতা যখন ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে। হয়তো তখন একটা সরকারী চাকুরি জোটে ।কেটে যাবে কিছু সময় । হঠাৎ কান পাতুন শুনতে অবসরের ষাটের ধ্বনি !!

লেখক:- শিক্ষার্থী,জার্নালিজম,কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ,স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ।

Facebook Comments