ঝিনাইদহে ৮ টি পরিবারের উপর নির্যাতনকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে !

0
126

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাতের রাজনীতি থেকে সরে আসার কারনে একটি পরিবারের উপর শুরু হয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন।

যা থেকে তাদের কোন পরিত্রাণের উপায় খুজে পাচ্ছে না পরিবারটি। একের পর এক কোর্টে ও থানায় মামলা করে মুক্তি মেলেনি পরিবারগুলির। এমন কি বাঁচার জন্য থানায় মামলা করেও নিজেরাই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম বোয়ালিয়া । এই গ্রামের মৃত নজর আলীর ছেলে সাহিদুর রহমান, তৈবুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম এবং মৃত তোরাপ আলীদের পুত্র হোমিও ডাঃ কোবাদ আলী, জোয়াদ আলী, সাবিরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম এই ৮ টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন লোক জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।

কিন্তু দেশ ব্যাপী জামাত শিবিরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে ২০১৩ সালের পরে এরা জামাত শিবিরের রাজনীতি পরিত্যাগ করে। এই পরিত্যাগ করার আগে এদের কোন সমস্যা ছিল না।

পরিত্যাগ করার পরেই এদের উপর শুরু হয় বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন। এই ৮ টি পরিবারে বিভিন্ন ভাবে দফায় দফায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে।

আটটি পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাড়ির লোকজনের মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয়। এদের ক্ষেতের প্রায় ৫০ বিঘা জমির বিভিন্ন প্রকার ফসল বিনষ্ট করা হয়।

তারমধ্যে, ১) সাহিদুর রহমানের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুল্যের ৮ টি মেহগনি গাছ জোর করে কেটে নেয়। ২) তবিবুর রহমানের ১৭ হাজার টাকা মুল্যের কাঁঠাল, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুল্যের বাঁশ, ৪০ হাজার টাকা মুল্যের ২ টি মেহগনি গাছ, ৪ হাজার টাকা মুল্যের কলা কেটে নেয়।

৩) সিরাজুল ইসলামের ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকার কলা, ১০ হাজার টাকার ওলকচু এবং ১৭ হাজার ৪০ শত টাকার বাঁশ কেটে নেয়। ৪) আব্দুল অয়াহেদের ৭৯ হাজার টাকার কলা, ২ হাজার ৪ শত টাকার কাঁঠাল ও ৪৫ হাজার টাকার বাঁশ কেটে নেয়। ৫) কোবাদ আলীর ৪৮ হাজার টাকার কলা ও ৫ হাজার টাকার বাঁশ কেটে নেয়।

৬) জোয়াদ আলীর ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকার বাঁশ, ৭০ হাজার টাকার মেহগনি, বেল, তেতুল, শিমুল, দেবদারু ও সড়া গাছ, ১৭ হাজার ৫ শত টাকা কলা কেটে নেয়। ৭) সবিরুল ইসলামের ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকার কলা, ৬০ হাজার টাকার আম, ১০ হাজার ৪ শত টাকার বাঁশ, ৩ হাজার ২০০ টাকার ঝাল ক্ষেত থেকে তুলে নেয়। ৮) আমিরুল ইসলামের ৯৪ হাজার টাকার কলা, ১০ হাজার ৪ শত টাকার বাঁশ, ১৫ হাজার টাকা মুল্যের ১ টি মেহগনি গাছ কেটে নেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা জামাতের রাজনীতির সাথে ছিলাম ২০১৩ সাল হতে জামাত বাদ দেওয়ার পর থেকে বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে বাবুল আখতারের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে ইউনুস-ইমদাদুল সহ প্রায় ২০/২৫ জনের একটি দল প্রতিনিয়ত আমাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।

সবিরুল ইসলাম আরো বলেন, বাবুল আখতারের এক বোন ছালেহা খাতুন কালু নামের জামাতের মহিলা রোকন বিভিন্ন স্থানে মহিলাদের তালিম দিয়ে বেড়ায়। বাবুল আখতারের বাড়ীতেই জামাত-শিবিরের তালিম দেওয়ার একটি ঘর আছে। এরা শুধু এই সকল অপকর্মে করেই থেমে নেই এই চক্তটি গত ১০/১০/২০১৬ তারিখে আমাদের পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে বাড়ির মেয়ে ছেলে সহ আমাকে আহত করে আমার হাত ভেঙ্গে দেয়।

আমি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এদের নামে আদালতে একাধিক মামলা আছে। তারপরেও এরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। এরা আমাদের ঘর থেকে বাহির হতে দেয় না এবং মাঠের ফসল চাষ করতে বাধা গ্রস্ত করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শৈলকূপা থানায় সি আর ৮১/১৬, সি আর ৮৬/১৬, জি আর ১৩৮/১৬, ঝিনাইদহ জেলা আদালতে মামলা নম্বর ৭২/১৬ ও ৭ ধারা সহ সর্ব মোট ৪ টি মামলা রয়েছে বাবুল আখতারের নামে।

এই প্রসঙ্গে শৈালকুপার ত্রিবেণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম খান ঘটনাটা স্বীকার করে বলেন, কয়েক দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হলে অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। তার পরেও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে মামলার কোন আসামী ঘুরে বেড়ালে পুলিশ গ্রেফতার করবে না সেটা ঠিক না।

Facebook Comments