সফল স্বেচ্ছাসেবী দম্পতি নজরুল ইসলাম ও নাজনীন প্রিয়া

0
437

সফল স্বেচ্ছাসেবী দম্পতি

আমার হাজব্যান্ড একজন স্বেচ্ছাসেবী।বিয়ের পর ওনার ব্লাডের রিকুয়েস্ট যখন আসতো আমি খুব বিরক্ত হতাম।কিন্তু একটা সময় ওনার কাজ দেখেই ব্লাড নিয়ে কাজ করার আগ্রহ জাগে।আর কাজ শুরু করার মতো একটা অসাধারণ প্লাটফর্মও পেয়ে যাই আমি। সুব্রত দেব ভাইয়া আমাকে ডোনেট ব্লাড বিডি কল সেন্টার এর মত একটা প্লাটফর্ম দিয়েছেন যেখানে আমি নিজের স্বাধীনতায় কাজ করতে পারি।আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ব্লাড নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমার মতো এরকম রেডি প্লাটফর্ম আর কেউ পায়নি। মানুষ কাজ করার আগে শিখে নেয়।আর আমি কাজ করতে করতে শিখছি।যদিও আমি একেবারেই অজ্ঞ ছিলাম এই কাজের জন্য।কিছুই জানতাম না।কিছুই বুঝতাম না।আমার হাজব্যান্ড নজরুল ইসলাম আর আমার ভাইয়া সুব্রত দেব ২ জন আমাকে অনেক বুঝিয়েছেন, শিখিয়েছেন। কাজ করি ভালোলাগা থেকে।চেষ্টা করি মূমুর্ষ রোগীদের পাশে দাঁড়াতে। বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।কিন্তু সেই অনুযায়ী রক্তদাতার সংখ্যা অনেক কম। ১৮-৬০ বছর বয়সী এবং মিনিমাম ৫০ কেজি ওজনের যে কোন ব্যক্তি প্রতি ৪ মাস পরপর রক্ত দিতে পারে। তাই ১৮ বছর এবং ১৮ বছর এর উপরের প্রত্যেক কে প্রতি ৪ মাস পরপর রক্তদান করা উচিত।যারা এখন পর্যন্ত রক্তদান করেনি আমি মনে করি তারা এখনও জীবনের পরিপূর্ন স্বাদ অনুভব করতে পারেনি। ওজন কম হওয়ায় আমি এখন পর্যন্ত রক্ত দিতে পারিনি।আমার জীবনের একমাত্র আফসোস। নিজে দিতে না পারলেও যাদের রক্ত দেয়ার মত যোগ্যতা এবং বয়স আছে আমি তাদের রক্তদানের বিষয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। আমি যখন একজন মুমূর্ষ রোগী কে রক্তদাতা খুঁজে দিতে পারি তখন নিজেকে পৃথিবীতে সব থেকে বেশি সুখী মানুষ মনে করি।তখনকার অনুভূতি অসাধারন যা আসলে বলে বুঝানোর মত না।আমার নিজে না দিতে পারার আফসোস কিছুটা হলেও দূর হয়। রোগীদের রক্তদাতা খুঁজে দিতে গিয়ে আমি কারো বোন হয়েছি।কারো মেয়ে হয়েছি।রোগীর লোকের মুখের স্নিগ্ধ হাসি দেখেছি।প্রশান্তিতে তাদের চোখে আনন্দের অশ্রু দেখেছি। যতদিন বেঁচে আছি এই কাজের সাথেই থাকতে চাই। সারা বাংলাদেশের প্রতিটা ভলান্টিয়ার আমাকে সহযোগীতা করেছে এই কাজের ক্ষেত্রে ইভেন এখনো করে।আমি কৃতজ্ঞ সবার কাছে।এভাবেই সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই সবসময়,সমাধান করতে চাই বাংলাদেশের রক্তের সমস্যার। সবাইকে সাথে নিয়ে,সবার সহযোগীতায়।

Facebook Comments