নারী বান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা চাই

0
732
ছবি, প্রতিকী

মুসরাত জাহান: কোন নারীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বাসে চলাচল করতে আপনি কি কি সমস্যার সম্মুখীন হন? এর প্রতিকার কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন? আমি আমার বন্ধুমহলেই কয়েকজনকে প্রশ্নটি করেছি। সবার উত্তর অনেকটাই একই রকম ছিল। উত্তর ছিল, বাংলাদেশে কোন কিছুই হবে না। নারীদের কোন নিরাপত্তা নেই এ দেশে ।আসলেও কি তাই?

নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে; এখন সব ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে।প্রায় প্রতিদিনই নারীদের নানা রকম কাজে ঘরের বাইরে যাতায়াত করতে হয়। এর মধ্যে কর্মজীবী এবং ছাত্রীর সংখ্যাই বেশী। প্রায়ই বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যা হয়তো আমরা কখনও আশা করি না,তা যে কারো সাথেই হোক। বৃদ্ধ পুরুষ কিংবা নত্তজোয়ানের কনই এর গুতা, সুযোগ পেলেই একটু গায়ের সাথে গা ছুয়ে দেয়া এরকম আরও নিকৃষ্ট কাজ সম্পর্কে কারোর অজানা নেই। তাড়াহুড়া করে উঠতে যেয়ে নিজের মেয়ের বয়সীকেও তারা ছাড়ে না। একরকম নিঃশব্দ আনন্দে তাঁরা মেতে উঠে।

আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি আমাদের দেশে বেশীর ভাগ নারীদেরই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। কি করলে আমরা এধরনের অবাঞ্ছিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি? কয়েকজন নারীকে প্রশ্নটি করার পর তাঁরা বলল, মেয়েদের যাতায়াতের জন্য আলাদা যানবাহনের ব্যবস্থা করা  উচিৎ। যদিও এর ফলে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আরও ভালো হয় যদি মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে শুধু মেয়েরাই সবধরনের দায়িত্ব পালন করবে। এতে করে অনেক মেয়েদের কর্মব্যবস্থাও হবে। যদি এটা সম্ভব না হয় তাহলে লাইন বজায় রেখে নারীপুরুষ উভয় সারিবদ্ধ হয়ে বাসে উঠা নামা করলে পরিস্থিতি উগ্র হয় না।

কাউন্টার সিস্টেম চালু করা। কাউন্টার বৃদ্ধি করা। মাঝ রাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রী না নেয়া। নারীরা এক সারিতে, পুরুষরা এক সারিতে বসবে এবং যতগুলো আসন ঠিক ততজনই যাত্রী উঠালে হজবরল অবস্থার সৃষ্টি ও হতো না, নারীদের লাঞ্ছিত করার সুযোগও হতো না। তাড়াহুড়া করে বাস ছাড়া উচিৎ না। এর ফলে উভয় লিঙ্গের মানুষ জলদি উঠতে চায় ফলে মেয়েরা এক প্রকার অসহ্য রকম পরিস্থিতিতে পড়ে।

আরেকটা বিষয় নিয়ে না বললেই নয়, বাসে বেশীরভাগ সময় দেখা যায়, “নারী,শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সিট”- প্রতিবন্ধীদের সাথে নারীদের তুলনা করা একধরনের বুদ্ধিভ্রষ্টর পরিচয়। নারীরা দুর্বল নয় এই কথাটা আমরা কেন ভুলে যাই? যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী সে দেশের একজন নাগরিক হয়ে এমন ভুল আমাদের কাম্য নয়।

বিশেষ আসন শুধু মাত্র গর্ভবতী,শিশু,বৃদ্ধ,প্রতিবন্ধীদের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ বলেই আমার মনে হয়। এখনই সময় এই ধরনের নোংরা প্রবণতা রুখে দাঁড়ানোর। সময় আরও অনেক আগেই হয়ে গিয়েছিল এসব বিচ্ছিরি কাজকর্ম প্রতিরোধ করার। তবু সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

মুসরাত জাহান: শিক্ষার্থী,জার্নালিজম,কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ,স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

মুক্তসংবাদডটকম/আলতাফ/১৫ 

Facebook Comments