প্রবাসী আয় কমেছে ১৫ শতাংশ

0
1167

প্রবাসী আয়ে মন্দাভাব যেন কাটছেই না। চলতি অর্থবছরে জুলাইয়ের পর আগস্টেও কমে গেছে প্রবাসী আয়ের ধারা। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) হিসাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। যদিও জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে বড় অঙ্কের প্রবাসী আয় আসতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের আগস্টে প্রবাসীরা ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গেল অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার বা দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরের আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি জুলাইতে ছিল আরও করুণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। অথচ গেল অর্থবছরের একই মাসে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। সবমিলে চলতি অর্থবছরের (জুলাই-আগস্ট) প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার। যা গেল অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার কম। গেল অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসে প্রবাসী আয় আসে ২৫৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের সুবিধা হলেও রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসীদের বেতন ও মজুরি কমেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মূল মূল দেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ‘স্থবিরতা’ চলছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ কোটি ১১ লাখ এবং বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ২৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ কোটি ২৬ লাখ ডলার, ডাচ্ বাংলা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

Facebook Comments