বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অজানা তথ্য

0
1207


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে অনেকেরই অনেক কিছু জানা। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের আবার অজানা। তেমনই এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু অজানা তথ্য। এক নজরে সেই তথ্য রইল আপনার জন্যে…………।bangladesh-army-final

প্রথমত জানা দরকার,

সেনাবাহিনীতে কত ধরনের বিভাগ (কোর) রয়েছে ?

১। সেনাবাহিনীর বিভাগ বা কোর গুলোর নাম খুব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করে নিচে দেওয়া হল

ক। আরমার্ড – ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া বাহিনী
খ। আর্টিলারি – কামান বা গোলন্দাজ বাহিনী
গ। সিগন্যাল- এরা ওয়্যারলেস, টেলিফোন, র‍্যাডার ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষা করে
ঘ। ইঞ্জিনিয়ার্স – এরা যাবতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ ছাড়াও স্থলবাহিনীর কাজও করতে সক্ষম
ঙ। ইনফ্যান্ট্রি- পদাতিক বাহিনী
চ। আর্মি সার্ভিস কোর- এরা সেনাবাহিনীর ফ্রেশ এবং ড্রাই রেশন, গাড়ি, চলাচলের তেল ইত্যাদি সরবরাহ করে
ছ। এ এম সি (আর্মি মেডিক্যাল কোর)- সেনাসদস্য ও তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে
জ। অরডন্যান্স- যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম,পোশাক,নিত্য ব্যাবহারের দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করে
ঝ। ই এম ই(ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর)- বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র তৈরি ও গাড়িসহ অন্যান্য বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের মেইন্ট্যানেন্সের কাজ করে
ঞ। মিলিটারি পুলিশ- এরা সেনানিবাসের ভেতর পুলিশিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে
ট। এ ই সি(আর্মি এডুকেশন কোর)- সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে
এছাড়াও আর্মি ডেন্টাল কোর, রিমান্ড ভেটেরেনারী এন্ড ফার্ম কোর , ক্লারিক্যাল কোর ইত্যাদি আরও কিছু ছোটখাটো কোর বা বিভাগ রয়েছে ।

২। সেনাবাহিনীর পদবীসমুহ কি ?

সেনাবাহিনীতে মুলতঃ তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে ।

ক। অফিসার
খ। জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার(জেসিও)
গ। নন কমিশন্ড অফিসার(এনসিও) ও অন্যান্য পদবী

৩। সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে কি যোগ্যতা লাগে এবং কি কি পরীক্ষা দিতে হয় ?

এস এস সি পাশ করে রিক্রুটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যায় । প্রায়ই বিভিন্ন স্টেডিয়ামে দেখা যায় এ ধরণের রিক্রুটিং । এক দিনের মধ্যেই লিখিত, মৌখিক এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেরকে এই পদে যোগ দিতে ডাকা হয় । এরা সফলভাবে ছয় মাস ট্রেনিং সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল সৈনিক হিসেবে চাকরি প্রাপ্ত হয় । এদের ট্রেনিং কোর,আর্মস বা সার্ভিস ভেদে বিভিন্ন স্থানে হয় ।

৪। সৈনিক পদে ভর্তি হলে কোন পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া যায় ? ধাপ গুলো কি কি ??

একজন সৈনিক সফলতার সঙ্গে চাকরি করলে অনারারী ক্যাপ্টেন পর্যন্ত হতে পারে । ধাপগুলো হচ্ছে:

ক। সৈনিক
খ। ল্যান্স কর্পোরাল
গ। কর্পোরাল
ঘ। সার্জেন্ট
ঙ। ওয়ারেন্ট অফিসার
চ। সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার
ছ। মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার
জ। অনারারী লেফটেন্যান্ট
ঝ। অনারারী ক্যাপ্টেন

৫। এনসিও এবং জেসিও কারা ?

এনসিও হচ্ছে নন কমিশন্ড অফিসার এবং জেসিও বা জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, যেখানে সৈনিকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি হয়ে ধাপে ধাপে এই পদ্গুলো প্রাপ্ত হয় । উপরের প্যারার কর্পোরাল ও সার্জেন্ট র‍্যাংক দুটি এন সি ও এবং ওয়ারেন্ট অফিসার এর পরবর্তী পদ্গুলো জেসিও হিসেবে বিবেচিত । উল্লেখ্য জেসিওরা দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী ।
এছাড়াও কোন সৈনিক যদি অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হয় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তাকে অফিসার হিসেবে জি এল কমিশনও প্রদান করা হয় ।

Facebook Comments