পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে শরীয়তপুরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

0
434

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু ও নদীশাসনকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে সেতুর দুই প্রান্ত মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একদিকে চলছে সেতুর কাজ, অন্যদিকে চলছে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মাওয়া ও জাজিরায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার দুই পাড়ে দুটি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পদ্মার পাড়। একই সঙ্গে সেতুর কাজ চলছে পুরোদমে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা-কর্মীরা এলাকা ঘুরে দেখছেন।
শ্রীনগরের দোগাছি, লৌহজংয়ের কুমারভোগ, মাওয়া ও শরীয়তপুরে কর্মব্যস্ত সবাই। মাওয়ার শ্রমিক মো. ফিরোজ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে পদ্মা সেতু। আর বুঝতেই পারছেন, এটার মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসের সাক্ষী এই সেতু নির্মাণে শ্রমিক থেকে প্রকৌশলীসহ সবার ঘুম হারাম।’
পদ্মা সেতুর মূল কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এর মধ্যে নদীশাসন, সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণের ২৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
পদ্মা সেতুর মূল কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণের ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, নদী শাসনকাজের ১৩ শতাংশ এবং সংযোগ সড়কের দুই প্রান্তে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর মূল কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে চায়না মেজর ব্রিজ। সংযোগ সড়কের কাজ করছে আব্দুল মোমেন কোম্পানি। নদীশাসনের কাজ করছে চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন। এর মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ তদারক করছে সেনাবাহিনী। সেতুর মূল কাজ ও নদীশাসনের কার্যক্রম তদারক করছে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতুটি মোট ৪২টি পিলারের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকবে। ৪০টি পিলার থাকবে নদীর ভেতরের অংশে। আর দুটি থাকবে দুই প্রান্তে সংযোগ সেতুতে। নদীর ভেতরের ৪০টি পিলারের প্রতিটিতে ছয়টি করে পাইল করতে হবে। এ জন্য মোট ২৪০টি পাইল করতে হবে। আর সংযোগ সেতুর দুটি পাইলে ১২টি করে ২৪টি পাইল করতে হবে। মোট ২৬৪টি পাইল করতে হবে ৪২টি পিলারের জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার সকাল নয়টা ২০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে শরীয়তপুরের জাজিরার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে সকাল ১০টার দিকে তিনি জাজিরায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনকাজের উদ্বোধন করবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নদীপথে শরীয়তপুর থেকে মাওয়ায় যাবেন। দুপুর ১২টার দিকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীনগরের দোগাছিতে মধ্যাহ্নবিরতি শেষে লৌহজংয়ে মাওয়াঘাট সংলগ্ন খানবাড়ি ও উত্তর মেদেনীমণ্ডলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে করে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে যাবেন।

Facebook Comments