ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে দুই শিক্ষকের কারাদণ্ড

0
20

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে জ্যোতিষ দেবনাথ নামে এক যুবককে দুই বছরের এবং এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে দুই শিক্ষককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান এ সাজা দেন।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার পর জ্যোতিষ দেবনাথ নামে এক যুবক উপজেলা পরিষদের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। জ্যোতিষ দেবনাথ উপজেলার পূর্বগ্রাম নাথপাড়ার সতিষ দেবনাথের ছেলে।

অপরদিকে ইটনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে দুই শিক্ষককে ছয়মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন একই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম ও ইটনা মহেষচন্দ্র মডেল শিক্ষা নিকেতনের শরীর চর্চা শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম খান।

ইউএনও মো. মশিউর রহমান জানান, প্রায় এক বছর আগে থেকে এ দুই শিক্ষক যৌন হয়রানী করে আসছিল ছাত্রীটিকে। তারা রাস্তায় মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দিত। বাড়িতে গিয়ে টাকা ও চকলেট দিত। কিছুদিন আগে একটি মোবাইল ফোনও কিনে দেয় ছাত্রীটিকে।

এক পর্যায়ে ছাত্রীটি ইউএনওকে ঘটনাটি জানালে ইউএনও দুই শিক্ষককে ডেকে এনে সতর্ক করেন। কিন্তু এরপরও নিবৃত হননি তারা। আজ বেলা ১১টার দিকে রাস্তায় ছাত্রীটির গতিরোধ করে কুপ্রস্তাব দিলে মেয়েটি কৌশলে ইউএনওকে ফোনে জানায়। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ঘটনা স্বীকার করে ক্ষমা চান।
ইউএনও বলেন, এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বারবার সতর্ক করার পরও তারা থামেননি। এ কারণে তাদেরকে ছয়মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments